কলাপাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণ

নুরুলের সব হারানোর শঙ্কা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৮ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণসহ জমির মূল্যপ্রাপ্তি ছাড়াই বসতভিটা, জমি সব হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন শ্রমজীবী নুরুল ইসলাম (৬১)। উচ্ছেদ তাগিদের খড়গ মাথায় নিয়ে ঘুরছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া মিলছে না কোনো প্রতিকার। পায়রা সমুদ্র বন্দরের ফোর লেন সড়ক লাগোয়া মূল্যবান এ সম্পত্তি হারানোর শঙ্কায় বৃদ্ধ এ মানুষটি এখন পরিবার নিয়ে দিন পার করছেন অন্ধকার অনিশ্চয়তায়।

জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পায়রা বন্দরের ফোর লেন সড়ক সংলগ্ন রজপাড়া মৌজার বিএস ৭০৬ নম্বর খতিয়ানের ১২৬৯ দাগের জমি থেকে শ্রমজীবী নুরুল ইসলামের ১০ শতাংশ জমি পায়রা বন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। অধিগ্রহণের যৌথ তদন্তের ফিল্ড বইয়ে গাছপালার ক্ষতিপূরণের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু তার সেমিপাকা বাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা জনৈক ইব্রাহিমের নামে লিপিবদ্ধ করা হয়। নুরুল ইসলামের ভ্রম সংশোধনী আবেদনের পর ইব্রাহিমের নাম বাদ দেওয়া হলেও তদস্থলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

নুরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের সব শর্ত পূরণ করে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। দিনের পর দিন বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়ে এখনো জমি কিংবা স্থাপনার ক্ষতিপূরণের টাকা পাইনি। এ নিয়ে দু’দফা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আবেদন করেছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘রিকশায় প্যাডেল মেরে ঘাম ঝরানো শ্রমের টাকায় কেনা একমাত্র সম্বল এই বসতভিটার ক্ষতিপূরণের টাকা কি পাব না? পরিবার চালাতে এ বৃদ্ধ বয়সে আবার কি রিকশা চালাতে হবে?’

জানতে চাইলে পটুয়াখালী ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. আল-ইমরান বলেন, ‘নুরুল ইসলাম সব কাগজপত্র নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত