বিশ্বজুড়ে পরিচিত অন্যতম বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার, যা শতবর্ষ আগেই বিলুপ্ত হয়েছিল বলে মনে করে বন বিভাগ। সেই বিষধর রাসেল ভাইপারের আনাগোনায় পদ্মা নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বন বিভাগ বলছে, সাপ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে বা মেরে না ফেলে বন বিভাগকে খবর দিন।
সূত্রমতে, ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শালদাহ গ্রামের গড়াই নদের চরে একটি সাপ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরে ফেলে রাখে বালুর মধ্যে। চরে ঘুরতে যাওয়া কিছু মানুষ ব্যতিক্রম ধরনের এ মরা সাপটি দেখে মোবাইলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে সবার মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই মরা সাপটি পূর্ণ বয়স্ক রাসেল ভাইপার হিসেবে বিষেশজ্ঞরা শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করে জেলার বন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে গড়াই নদের ডান তীরে কমলাপুর এলাকায় মৃদুল নামে এক যুবক নদীতে মাছ ধরতে গেলে সেখানে কাশবনের ঝাড়ের সঙ্গে পেঁচিয়ে থাকা একটি আলাদা ধরনের সাপ দেখে সেটাকে অজগরের বাচ্চা ভেবে জালে জড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। সাপটি বিক্রি করতে চেয়েছিল জানিয়ে মৃদুল বলেন, ‘সাপটি নিতে এসে কয়েকজন সাপুড়ে না নিয়েই চলে যায়। পরে সাংবাদিক, প্রাণিবিদ ও বন বিভাগের লোকজন এসে এটাকে রাসেল ভাইপার বিষধর সাপ বলে নিয়ে যায় এবং ছেড়ে দেয়।’
পদ্মা নদীর শাখা গড়াই নদের বামতীরে শালদাহ গ্রামের চরের বাসিন্দা আলিমদ্দিন বলেন, ‘২ ও ৩ তারিখে গাঙ থেকে উইঠি আসা অজগরের ছাওয়ের মতো দুইডি সাপ ছাওয়ালপাল লাঠি দিয়ে বাইড়ি মারি ফ্যালচে। পরে শুনতি পালাম ওই সাপ নাকি খুব বিষধর রাসেল সাপ বোলে। এই কতা শুইনি একন সবাই খুব আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।’
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সাপ দেখলেই বা কামড়ালেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশে শতাধিক প্রজাতির সাপ আছে, এর মধ্যে ১৫টির মতো সাপ কামড়ালে প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে বিষধর সাপ কামড়ালেও দেশের সব সদর হাসপাতালে এসব বিষের এন্টিভেনম আছে, যেগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। সাপে কামড়ালে ওঝা না ডেকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত। ওঝা কখনো বিষ নামাতে পারে না।’
কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ছালেহ মো. সোহায়েব খান বলেন, ‘কুষ্টিয়ার কমলাপুর থেকে উদ্ধারকৃত প্রায় সাড়ে ৩ ফুট দৈর্ঘ্যরে সাপটি রাসেল ভাইপার। এটা বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপ। শতবর্ষ আগেই এটি বিলুপ্ত হয়েছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে আবার দেখা যাচ্ছে। পদ্মার অববাহিকায় বেশ কয়েক জেলায় রাসেল ভাইপারের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রকৃতিকে নিজের মতো করে থাকতে দিন।’
