‘নদী সচল না থাকলে সবকিছুরই ছন্দ পতন ঘটবে। নদী আমাদের সার্বিক পরিবেশ- প্রতিবেশ, অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন বিনোদন ইত্যাদি সকল কিছুরই উৎস। কিন্তু দিন দিন আমাদের নদীগুলো বিপন্ন হয়ে পড়েছে। খোয়াই, সুতাং নদীসহ জেলার সকল নদীর উপর চলছে নানামুখী অত্যাচার।
একদিকে নদীর বুক থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নদী দখল অন্যদিকে শিল্প কারখানার বর্জ্য নিক্ষেপের কারণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে নদী।’
আজ ২৬ সেপ্টেম্বর 'বিশ্ব নদী দিবস' উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার খোয়াই নদীতে আয়োজিত ‘নদী পরিভ্রমণ’ কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, বহু বছর ধরেই খোয়াই নদীর নাব্যতার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ নদী খনন না হওয়ায় পলি ও বালি জমে নদীর তলদেশে ভরে গেছে। ফলে নদীর বুক শহর থেকে ১২/১৫ ফুট উঁচু হয়ে গেছে।
এছাড়াও অপরিকল্পিত- অনিয়ন্ত্রিত বালু, মাটি উত্তোলনের কারণে বিভিন্ন নদীর স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নদীতে বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পানি দূষণ ইত্যাদি বিরাজমান।
অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ, যথাযথভাবে নদী খনন করে খোয়াই নদীর গতিপথ অবারিত রাখা, জেলার সকল নদী রক্ষায় বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে খোয়াই মুখ এলাকা থেকে মশাজান পর্যন্ত নদী পরিভ্রমণ করেন আয়োজকরা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেলের সমন্বয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী মুমিন, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সাবেক জনপ্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট বিজন বিহারী দাস, বিশিষ্ট চিকিৎসক পরিবেশ কর্মী এস এস আল আমীন সুমন, আফরোজা ছিদ্দিকা, সাংবাদিক আব্দুল হালিম, তানভীর হোসেন, তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সংস্কৃতিকর্মী মো. আবিদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ আল আমিন, মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, মো. হুমায়ুন খান, মুনির উদ্দিন, এটি এম কদর আলী, মো. মইনুল ইসলাম, সমীরণ গোপ, মো. সোহান প্রমুখ।
