মের্কেলের পর কে?

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩০ পিএম

নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ছয় কোটির বেশি জার্মান নাগরিক আর এর মধ্যে দিয়ে জার্মানিতে অ্যাঙ্গেলা মের্কেল যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ১৬ বছরের নেতৃত্বে চ্যান্সেলর মের্কেল ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির এ দেশকে বদলে দিয়েছেন অনেকখানি। মের্কেল তার দেশে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, তরুণ ভোটারদের অনেকে অন্য কোনো চ্যান্সেলরের নামও মনে করতে পারেন না। কিন্তু কে হচ্ছেন মের্কেলের উত্তরসূরি? ভোটের আগে জনমত জরিপে তার স্পষ্ট কোনো আভাস মেলেনি।

গতকাল রবিবার ছিল জার্মানিতে ছুটির দিন। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশজুড়ে চলে ভোট। ফেডারেল জার্মানির ইতিহাসে এবারই প্রথম নির্বাচনের আগে তিন প্রধান দলের চ্যান্সেলর পদপ্রার্থীরা টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। তবে ভোটের আগে নিশ্চিত জয়ের আভাস পাচ্ছেন না কেউ। সর্বশেষ জনমত জরিপ বলছে, সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি খুব সামান্য ব্যবধানে মের্কেলের রক্ষণশীল ইউনিয়ন শিবিরের চেয়ে এগিয়ে আছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, ভোট শেষে যে দলই এগিয়ে থাক, সরকার গড়তে তাদের জোটের শরণ নিতে হবে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে লিখেছে, এসপিডি প্রার্থী ওলাফ শলৎস ও ইউনিয়ন শিবিরের প্রার্থী আরমিন লাশেটের হাতে সংসদের আসন সংখ্যার মধ্যে ফারাক যদি সত্যি খুব কম হয়, সে ক্ষেত্রে দুপক্ষই সমান্তরালভাবে সরকার গড়ার লক্ষ্যে বাকিদের সঙ্গে আলোচনা চালাতে পারে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। বুন্ডেসটাগে আসন থাকে অন্তত ৫৯৮টি। অন্তত বলা হচ্ছে কারণ এ সংখ্যা বাড়তে পারে। জার্মানির নির্বাচন পদ্ধতিই এমন।

কোন দল এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে তা ভোট শেষে রাতের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে সরকারে কে যাচ্ছে তা স্পষ্ট হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সঙ্গে জোট বেঁধে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে কোনো দলকে। ফলে নতুন চ্যান্সেলর কে হবেন, তা জানতেও অপেক্ষায় থাকতে হবে। বিদায়ী চ্যান্সেলর মের্কেল ভোটের আগে তার দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, জার্মানির প্রয়োজন স্থিতিশীলতা আর তরুণ জার্মানদের দরকার সুন্দর ভবিষ্যৎ। সুতরাং ক্ষমতায় কে থাকবে, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১৮ বছরের বেশি বয়স হলে জার্মানিতে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া যায়। দেশটিতে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা ৬ কোটি ৪০ লাখ। পুরো জার্মানিতে ৮৮ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটগ্রহণের কাজে যুক্ত রয়েছেন সাড়ে ছয় লাখ স্বেচ্ছাসেবী। অবশ্য পোস্টাল ব্যালেটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে আগেই। জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সবাইকে পৌর কর্র্তৃপক্ষের কাছে নাম নিবন্ধন করতে হয়। তাই সেই তালিকা থেকে শুধু জার্মান নাগরিকদের বেছে নিয়ে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র ও সেই আমন্ত্রণপত্র নিয়ে নির্ধারিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গেলেই ভোট দেওয়া যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত