নাটোর সদর হাসপাতাল

টেন্ডার শিডিউল ছিনিয়ে নিলেন যুবলীগ নেতা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৩ এএম

নাটোর সদর হাসপাতালের প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার শিডিউল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়ার বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপনের কাছ থেকে শিডিউল ছিনিয়ে নেন তিনি। তখন স্বপন বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আযম স্বপন অভিযোগ করে বলেন, ‘দুপুরে নাটোর সদর হাসপাতালের ৬টি গ্রুপের দুটি কাজের টেন্ডার শিডিউল কিনি। শিডিউল কেনার খবর পেয়েই জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়া দলবল নিয়ে আমাকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে শিডিউল নিয়ে বের হওয়ার সময় এহিয়া চৌধুরী শিডিউলগুলো ছিনিয়ে নেয়। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।’ এদিকে শফিউল আযম স্বপনের কাছ থেকে টেন্ডার শিডিউল ছিনিয়ে নেওয়ার একটি  ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বরও বগুড়ার আলিয়া করপোরেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শিডিউল কিনে বের হওয়ার সময় জেলা যুবলীগ সভাপতি বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়া শিডিউল ছিনিয়ে নেন।

শিডিউল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে নাটোর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাদাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেউ টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ থানায় দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যমতে, সম্প্রতি নাটোর সদর হাসপাতালের ওষুধ, খাবার ও আসবাবপত্র সরবরাহসহ মোট ৬টি গ্রুপের প্রায় চার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল পর্যন্ত মোট ১৮টি শিডিউল বিক্রি হয়েছে। আগামীকাল ৩০ সেপ্টেম্বর শিডিউল কেনা এবং ৩ অক্টোবর জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে।

সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. পরিতোষ কুমার রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিডিউল ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। তাছাড়া টেন্ডারের শিডিউল কেনার পর বাইরে কোনো ঘটনা ঘটলে এটা আমাদের এখতিয়ার না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত