রাতভর টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকা। ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, পাড়া মহল্লার রাস্তাঘাট, বসতবাড়িসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর নগরীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৬৫ মিলিমিটার। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত রাত থেকে হওয়া ৭ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত ছিল ২২২ মিলিমিটার।
মঙ্গলবার সারা দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রংপুরের ১০০ বছরের ইতিহাসে ৩৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। কোমর সমান পানিতে তলিয়ে ছিল রংপুর।
রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, গত বছরেও ইতিহাসে একদিনের বৃষ্টিপাত হয়েছিল নগরীতে। তবুও ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে নগরবাসী। আবারও তুলনামূলক বৃষ্টিতে কিছু জায়গায় পানি জমলেও ক্যানেল পরিষ্কার থাকায় পানি নেমে যাচ্ছে। নগরীর যেসব এলাকায় পানি উঠেছে তা নিচু এলাকা হওয়ায় পানি নেমে যেতে সময় লাগছে।
পানিবন্দী মানুষকে সহযোগিতায় ৩৩ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত দুদিন ধরে রংপুরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদীসহ আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙনের। এ ছাড়া পুরো নগরী জুড়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
সকালে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নগরীর লালবাগ কেডিসি, মাহিগঞ্জ, বোতলা, মুলাটোল, মুন্সিপাড়া, গোমস্তপাড়া, খলিফাপাড়া, নগর মীরগঞ্জ, হোসেন বাজার, সর্দারপাড়া, মাস্টারপাড়া, ঈদগাঁহপাড়া, জুম্মাপাড়া, আদর্শপাড়া, কামারপাড়া, বাবুখাঁ, কামাল কাছনাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পানি ওঠায় বন্দী হয়ে পড়ে মানুষ। ফলে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ দেখা যায়।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আরও দুই-একদিন অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
