আফগানিস্তানে মুখোমুখি আইএস-তালেবান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৯ এএম

আফগান তালেবানের সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সম্পর্ক রয়েছে এমনটা দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। বলা হয়, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে দুর্বল করতে ইসলামিক স্টেটের সহায়তা নিয়েছিল তালেবান। কিন্তু গত ১৫ আগস্ট তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে তাদের সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মসজিদের প্রবেশপথে বোমা বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার পর ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সেল ধ্বংস করেছে তালেবান সরকারের বাহিনীগুলো। গত রবিবার রাতে কাবুলের উত্তর অংশে জঙ্গিদের ওই সেলটি ধ্বংস করা হয় বলে গতকাল সোমবার এক টুইটে জানিয়েছেন তালেবানের এক মুখপাত্র। তবে কাবুলের বিস্ফোরণের সঙ্গে ওই অভিযানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি। আগস্টের শেষদিকে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহারের পর থেকে আফগান রাজধানীতে হওয়া এই বিস্ফোরণকে সবচেয়ে গুরুতর হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসলামিক স্টেটের স্থানীয় শাখা আইএসআইএস-খোরসান ইতিমধ্যে তালেবানের বিভিন্ন লক্ষ্যে হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে। তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, রাজধানীর উত্তরে কাবুলের ১৭তম জেলায় আইএসআইএসের এক সেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় তালেবানের একটি স্পেশাল ইউনিট। টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই চূড়ান্ত ও সাফল্যজনক আক্রমণে আইএসআইএসের ঘাঁটিটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং ভেতরে থাকা আইএসআইএসের সব সদস্য নিহত হয়েছে।’

এর আগে স্থানীয় গণমাধ্যম ওই এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর দিয়েছিল। ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রাতে তারা বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শুনেছেন বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। আইএসের পাশাপাশি কাবুলের উত্তরে পানশিরের বিরোধীদলীয় নেতা আহমদ মাসুদের অনুগত অবশিষ্ট বাহিনীগুলোর সঙ্গেও লড়াই করতে হচ্ছে তালেবান বাহিনীকে। তারপরও দেশের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গোষ্ঠীটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত