অপরাধ দমনের বিধান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৪ এএম

ইসলামি বিধানমতে সমাজ তথা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো, যেসব কারণে অপরাধ সংঘটিত হয় তা থেকে সমাজকে মুক্ত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ধারা চালু রাখা। মানুষের মন-মানসিকতায় আল্লাহর ভয় জাগ্রত করা। হৃদয়ের গহিনে এ কথা গেঁথে দেওয়া, অপরাধ যত গোপনেই করা হোক, আল্লাহ তা দেখেন। পরকালে এর জবাবদিহি করতে হবে, শাস্তিভোগ করতে হবে। পরকালের শাস্তি ইহকালের শাস্তি অপেক্ষা অনেক কঠিন ও স্থায়ী। এরপরও কেউ অপরাধ করলে ইসলাম তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদানের পক্ষপাতী। অপরাধ দমনে ইসলামি বিধানের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ

প্রতিরোধমূলক : ইসলাম অপরাধের পথ খোলা রেখে অপরাধ করার সুযোগ দেয় না; বরং অপরাধের কারণ যাতে সংঘটিত না হয় তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যেমন খুন খারাবি রোধে সামাজিক দ্বন্দ্ব-কলহের অবসান ঘটায়। চুরি ডাকাতি রোধে সম্পদের সুসম বণ্টনের নির্দেশ দেয়। ব্যভিচার রোধে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও যৌন প্রবৃত্তি উদ্দীপক সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

ইনসাফভিত্তিক : ইসলাম বিচারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে। অপরাধী ও যাদের বিরুদ্ধে সে অপরাধ করেছে, উভয়ের অবস্থা বিবেচনা করে। ইসলাম চোরের হাত কেটে দিতে বলে। কিন্তু ‘যেখানে সামান্যতম সন্দেহ থাকে, চোর ক্ষুধার তাড়নায় চুরি করেছিল, সেখানে কিছুতেই এ শাস্তি দেওয়া হয় না। সামান্য জিনিস চুরির জন্য হাত কাটার নির্দেশ দেয় না। কোন সময়ে ও কোন প্রেক্ষাপটে হাত কাটা হবে ইসলামের এ বিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া জরুরি।

আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান : ছোট-বড়, ধনী-গরিব, সাদা-কালো সবার জন্য ইসলাম একই শাস্তির বিধান দেয়। দেশের কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, বনু মাখজুম গোত্রীয় এক নারী চুরি করেছিল। এতে কোরাইশরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারা বলাবলি করে, কে নবী কারিম (সা.)-এর কাছে এ ব্যাপারটি উত্থাপন করবে? তার প্রিয় পাত্র উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) ছাড়া আর কে এ সাহস করবে? এরপর উসামা (রা.) হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এ ব্যাপারে আলোচনা করেন। তখন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি কি আল্লাহর দণ্ডবিধিগুলো থেকে এক দণ্ডের ব্যাপারে সুপারিশ করছ?’ তারপর তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বেকার লোকদের নীতিও ছিল যে যখন কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে কোনো দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত, তখন তার ওপর দণ্ড প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা ফাতেমাও চুরি করে, তাহলে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দেব।’ মিশকাত : ৩১৩

সংশোধনমূলক : আল্লাহর হক সম্পর্কিত অপরাধের জন্য ইসলাম অপরাধীকে তওবার সুযোগ দেয়। খালেস নিয়তে তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। ফলে সে নিজে সংশোধিত হওয়ার সুযোগ পায়। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো; আন্তরিক তওবা। তাহলে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কর্মগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ...।’ সুরা তাহরিম : ৮

কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক : ইসলাম অপরাধের ক্ষেত্রভেদে বেত্রাঘাত, রজম ও শিরেদের বিধান দেয়। এগুলো কঠোর ও কঠিন শাস্তি। এ শাস্তি জনসমক্ষে দিতে হয়। যাতে সবাই শাস্তির কঠোরতা দেখে অপরাধ থেকে বিরত থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বুদ্ধিমানরা! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পারো।’ সুরা বাকারা : ১৭৯

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত