দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : ফখরুল

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২১, ০২:০২ এএম

দেশের সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন দানব সরকারকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের একটা পার্লামেন্ট তৈরি করতে হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি সমর্থক ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) এ সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন আজকে নিজেদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যের মধ্য দিয়ে দুর্বার একটা গণআন্দোলন সৃষ্টি করি। সেই গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই অবৈধ সরকার, যারা বিনা নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে তাদের সরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমরা নির্মাণ করি।’

তিনি বলেন, ‘আবরার হত্যার পরে সেদিন যারা সোচ্চার হয়েছিল সে তরুণ সমাজের আজকে কোনো কর্মসূচি দেখতে পাচ্ছি না। পরিবর্তন আসে সবসময় তরুণ এবং যুবকদের মাধ্যমে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে সেই তরুণ-যুবকদের আমরা সামনে দেখতে পাচ্ছি না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আবরার হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আবরার হত্যা এ দেশের যে সামগ্রিক সংকট সেই সংকটের একটা প্রতিচ্ছবি। বহু আবরার হত্যা হয়েছে এবং আমরা সকলেই জানি আমাদের পাঁচ শতের অধিক নেতাকর্মীদের গুম করে ফেলা হয়েছে। সহস্রাধিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে এর কোনোটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সুদূরপ্রসারী আধিপত্যবাদী চক্রান্ত।’

তিনি বলেন, ‘আজকে এই সরকার আধিপত্যবাদের তাঁবেদারি করছে এবং একটি পুতুল সরকারে তারা পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু আজ নয়, তারা ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত একটি তাঁবেদারি সরকারের ভূমিকা পালন করেছে এবং বাংলাদেশকে তারা একটি তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। আজকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সুকৌশলে গণতন্ত্রের একটি মোড়ক লাগিয়ে একই কায়দায় সেই একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল এবং তাঁবেদারি রাষ্ট্র গঠন করতে চায়।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের মানুষ চিরকাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। যুগ যুগ ধরে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। আমি বিশ্বাস করি, কখনোই বাংলাদেশের মানুষকে এভাবে পরাজিত করা সম্ভব হবে না। এই সরকারকে অবশ্যই সরে যেতে হবে এবং জনগণের কাছে তাদের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। এই সরকারের কীর্তিকলাপ বর্ণনা করে আপনাদের সময় নষ্ট করতে চাই না। বলার কোনো জায়গা নেই এই সরকার কয়েক বছরে বাংলাদেশকে পুরোপুরিভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এর কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই, এর কোথাও কোনো ন্যায়বিচার নেই। কোনো মানুষের জীবন এবং জীবিকার কোনো কিছু তারা অবশিষ্ট রাখেনি।’

সাংবাদিক কনক সারওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনে সে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে। সেখান থেকে সে কিছু সত্য কথা তার চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফরকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিবেদন সে প্রকাশ করেসেজন্য ভয়াবহ প্রতিহিংসাপরায়ণ এই সরকার কনক সারোয়ারের বোনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়, তিনি একজন গৃহবধূ। শুধু গ্রেপ্তারই করেনি নির্যাতন করেছে, তাকে রিমান্ডে পর্যন্ত নিয়েছে। ক’দিন আগে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর নির্যাতন হয়েছে, এরকম আমাদের কত নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের মা-বোনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এটা কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বক্তব্য বেশি দেওয়ার সময় নয়, এখন কাজের সময়। আমি বারবার বলেছি এই সংকট শুধু বিএনপির নয়, এটা হচ্ছে সমগ্র জাতির সংকট। এই সংকট থেকে উদ্ধার পেতে হলে আজকে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একা বিএনপি এই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়েনি, পুরো জাতি পড়েছে। সেই ক্ষেত্রে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে।’

অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজুর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান চুন্নুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শওকত মাহমুদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বুয়েট শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসিফ হোসেন রচি প্রমুখ। আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব হাছিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, কৃষিবিদ অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডীসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত