গাড়ির হর্নেই সুরের মূর্ছনা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৬ পিএম

নাগরিক জীবনে শব্দদূষণের অন্যতম উৎস গাড়ির হর্ন। ঘরের বাইরে দূরের কথা, ঘরের মধ্যেও গাড়ির হর্নের বিকট শব্দ টের পাওয়া যায়। এতে মানুষের স্বাস্থ্যে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। অন্য দূষণ বন্ধে বিশ্বে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে দেখা গেলেও শব্দদূষণ বন্ধে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। উল্টো শব্দ উৎপাদন হয় এমন ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

নগরাঞ্চলে এই অত্যাচার আরও বেশি। এই অবস্থায় ত্যক্তবিরক্ত ভারতের পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি ভিন্ন কৌশল নিতে চাচ্ছেন। তিনি গাড়ির হর্নের জায়গায় মধুর সুর বাজানোর পরিকল্পনা করছেন। পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘হর্নে সংগীতের সুর বাজানোর বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। শিগগির এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা আছে। সে অনুযায়ী কোনো চালক হর্ন চাপলে ভারতীয় যন্ত্রসংগীত বাজবে, যা সবার কাছে শুনতে ভালো লাগবে।’

হর্নের জায়গায় বাঁশির সুর, তবলা, ভায়োলিন, মাউথ অর্গান কিংবা হারমোনিয়ামের সুর বাজানো যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তিনি। ভারতের পরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ির শব্দও নরম ও মধুর করা যায় কিনা, সে বিষয়েও চিন্তা চলছে।

নগরাঞ্চলে শব্দদূষণের জন্য গাড়ির হর্ন অন্যতম দায়ী। বিশ্বের সবচেয়ে কোলাহলপূর্ণ শহরের তালিকায় ভারতের কয়েকটি শহর রয়েছে। এসব শহরের সব রাস্তা ভরা থাকে রিকশা, বাস, ট্যাক্সি, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে। তারা একে অপরকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে। এ জন্য হর্নের ব্যবহারও বেশি করেন চালকরা। সামনের গাড়িকে সরে যাওয়ার জন্য নয়, যেন নিজের উপস্থিতি জানান দিতে চান তারা। ভারতে কোনো কোনো ট্রাকের পেছনে তো লেখাই থাকে ‘হর্ন দিন’।

তবে হর্ন, নির্মাণকাজসহ নগরাঞ্চলের যান্ত্রিক নানা কারণে শব্দদূষণ ঘটছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, শব্দদূষণের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। এমনকি হৃদরোগ, মানসিক চাপ, বিষণœতার কারণও হতে পারে শব্দদূষণ। এমনকি গর্ভে থাকা সন্তানও শব্দদূষণে ক্ষতির শিকার হয়, অর্থাৎ তাদের শ্রবণশক্তি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। শব্দের এই দূষণ বন্ধে বিশ্বের সরকারগুলোর বিভিন্ন পদক্ষেপ থাকলেও সেই পদক্ষেপগুলোর অধিকাংশই ফাইলবন্দি থেকে যায় যুগের পর যুগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আবাসিক এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনের বেলা ৫৫ ডেসিবেল, রাতে ৪৫ ডেসিবেল হওয়া উচিত; বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৬৫ ডেসিবেল, রাতে ৫৫ ডেসিবেল; শিল্পাঞ্চলে দিনে ৭৫ ডেসিবেল, রাতে ৬৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দমাত্রা থাকা উচিত। আর হাসপাতালে সাইলেন্স জোন বা নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবেল, রাতে ৪০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা থাকা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত