যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতির তদন্ত শুরু

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২১, ০১:১০ এএম

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে জালিয়াতির মাধ্যমে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই অংশ হিসেবে আজ রবিবার শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন দুদকের কর্মকর্তারা।

গতকাল শনিবার দুদক যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ‘অর্থ আত্মসাতের ঘটনা থানা-পুলিশের হাতে নেই। আমরা তদন্ত করছি। রবিবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলা হবে।’

শিক্ষা বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী রেজা জানান, উপসচিব জাহাঙ্গীর আলম কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও তারা ফিরিয়ে দিয়েছেন।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাসনীম আহমেদ জানান, সকালে শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন। অভিযোগের ধরন দেখে বিষয়টি দুদককে জানানোর পরামর্শ দেন তারা। এদিকে গতকাল সকালে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জানা গেছে, চেয়ারম্যানের সঙ্গে বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী রেজা, উপপরিচালক (নিরীক্ষা) এমদাদুল হক, অডিট অফিসার আবদুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২০-২১ অর্থবছরের বিভিন্ন মালামাল ক্রয় বাবদ ভ্যাটের জন্য দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা নয়টি চেকের ১০ হাজার ৩৬ টাকার পরিবর্তে জালিয়াতি করে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার বোর্ডের অডিট শাখায় ধরা পড়ে। নয়টি চেকের মধ্যে সাতটি ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ও দুটি শাহীলাল স্টোরের নামে ইস্যু করা।

অডিট অফিসার আবদুস সালাম জানান, তারা চেকের মুড়ি বইয়ের সঙ্গে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট মেলানোর সময় জালিয়াতি টের পান। ধারণা করা হচ্ছে, বোর্ডের কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া চেকের মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের বলেন, ‘বোর্ডের চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেনসহ চারজন জড়িত। ভুয়া প্যাড, সিল ব্যবহার করে টাকা তোলা হয়েছে। আমার কাছ থেকে ফিরতি চেকে তারা এই টাকা নিয়ে গেছেন।’ আর আশরাফুল দায়ী করেছেন হিসাব বিভাগের সহকারী আবদুস সালামকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত