আফগানিস্তানে বাড়ছে মুদ্রা পাচার

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৪ পিএম

কান্দাহারের মানি-চেঞ্জাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানদের মধ্যে পাকিস্তানি রুপির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার কেনার প্রবণতা বেড়েছে। এই আফগানি ও পাকিস্তানি রুপি ডলারে পরিণত করে সহজেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে মুদ্রা পাচার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা। পাচারের ক্ষেত্রে সাধারণ আফগানদের পছন্দের জায়গা পাকিস্তান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আফগানিস্তানে মুদ্রা পাচারের এই হার অব্যাহত থাকলে দেশটির অর্থনীতি বলে আর কিছুই থাকবে না।

টোলো নিউজ বলছে, পাকিস্তান থেকে লাখ লাখ রুপি প্রবেশ করছে আফগানিস্তানে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মানি-চেঞ্জারদের মাধ্যমে মানুষ ডলারে রূপান্তরিত করছে। আফগানদের মধ্যে এই প্রবণতা বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হলোÑদেশটির বর্তমান অবস্থা এমন নয়। সম্প্রতি পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে পাকিস্তানের অর্থ পাচারকারী চক্রের সদস্যরা বেছে নিয়েছে আফগানিস্তানকে। যেহেতু আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, ফলে আফগানিস্তানে রুপিকে ডলারে রূপান্তর করা অনেক সহজ। কান্দাহারের মানি-চেঞ্জার হাজি বাবাই টোলো নিউজকে বলেন, ‘কিছু পাকিস্তানি বিনিয়োগকারী বাজার থেকে সব ডলার কিনে নিয়ে তাদের রুপি আমাদের বাজারে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এখানে চ্যালেঞ্জ অনেক। স্থানীয় বাজারে এখন ডলার সংকট চলছে।’

অর্থ পাচারের এই ঘটনা স্পষ্ট করছে যে, ডলারের বিপরীতে আফগানি দরপতন ঘটেছে অনেক। গত দুই মাসে ডলারের বিপরীতে আফগানির দাম কমেছে অনেক। দেশ থেকে ডলার বাইরে চলে যাওয়ার কারণেও আফগানি দাম হারাচ্ছে। আফগান লেকচারার রহমতুল্লাহ পশতুন বলেন, ‘এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললে আফগানিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি শুরু হবে। ডলার চোরাচালান অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। না হলে এটা আফগানিস্তানের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’ আফগান সরকার পতনের আগে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেও স্থানীয় বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার এনেছিল, যাতে আফগানির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যাবতীয় সহায়তা বন্ধ করে দেয়। এতে ডলারের বিপরীতে আফগানির দাম আরও কমতে শুরু করে। আর এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তালেবান নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

তালেবান সরকার সাধারণ আফগানদের ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করে রেখেছে। কোনো আফগান সপ্তাহে বিশ হাজারের বেশি আফগানি তুলতে পারবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত