৭০ শিশু অভিযুক্তকে সংশোধনের জন্য আদালতের ব্যতিক্রমী রায়

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৬ পিএম

প্রতিদিন দুটি ভালো কাজ করে তা আদালতের দেওয়া ডায়েরিতে লিখে রাখা ও বছর শেষে ডায়েরি আদালতে জমা দেওয়া, বাবা-মাসহ গুরুজনদের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলা এবং তাদের সেবা-যত্ন ও কাজে সাহায্য, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ, ধর্ম পালন, অসৎ সঙ্গ ত্যাগ, মাদক থেকে দূরে থাকা, ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে নিজেকে না জড়ানোর শর্তে সুনামগঞ্জে ৭০ শিশু অভিযুক্তকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন শিশু আদালতের বিচারক। লঘু অপরাধে ৫০ মামলায় ৭০ শিশুকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে বাবা-মার জিম্মায় দেন এ বিচারক।

বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন এ রায় দেন।

বিচারকের রায়ে বলা হয়, এসব শর্ত পালন হচ্ছে কিনা তা আগামী এক বছর একজন প্রবেশন কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতি তিন মাস অন্তর আদালতকে অবহিত করবেন।

আদালত এসব রায়ের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘কোমলমতি এসব শিশুদের পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। ক্ষুদ্র একটি অভিযোগে এসব শিশুদের আদালতে হাজিরা দিতে হতো। এর ফলে শিশুদের ভবিষ্যৎ এক অনিশ্চয়তায় নিপতিত হয়। শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে এসব মামলা নিষ্পত্তি করে পরিবারের সান্নিধ্যে কোমলমতি শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে এবং সুন্দর জীবন গঠনের সুযোগ পাবে।’

এ রায়ে খুশি ও সন্তুষ্টি জানান অভিভাবকরাও।

শিশু আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হাসান মাহবুব সাদী জানান, আদালতের এমন উদ্যোগ পরিবারের সান্নিধ্যে এসব কোমলমতি শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে এবং সুন্দর জীবন গঠনের সুযোগ পাবে।

আর এর আগেও কয়েকবার ১০০ পরিবারকে এমন রায়ে পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়া ও অর্ধশতাধিক শিশুকে সাজার পরিবর্তে বই হাতে দিয়ে ব্যতিক্রমী রায় দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন এই বিচারক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত