অতিমারীর ছুটিতে ২৬৮ শিক্ষার্থী সংসারী

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৬ পিএম

করোনার অতিমারীর কারণে গত দেড় বছরের ছুটিতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৪৬২ জন শিক্ষার্থীর ৩ হাজার ২৩৬ ছাত্রীর মধ্যে ২৬৩ এবং ৩ হাজার ২২৬ ছাত্রের মধ্যে ৫ ছাত্র বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ছাত্রীর ৮ দশমিক ১৩ এবং মোট ছাত্রের ০ দশমিক ১৫ শতাংশের বাল্যবিয়ে হয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই লেখাপড়া বন্ধ করে এখন সংসার করছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দারিদ্র্য, কুসংস্কার ও ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা’ থেকে অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন বলে মতপ্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।

উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আটটি কলেজ, ১৪টি মাদ্রাসা ও তিনটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ হাজার, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ হাজার ১৯২, কলেজ শিক্ষার্থী আট হাজার ৭৫২ ও মাদ্রাসায় তিন হাজার ৭৭৫ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এরমধ্যে মির্জাপুর সরকারি সদয় কৃষ্ণ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রী ও ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী পাঁঁচ ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে।

সদরের মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী বিয়ে করেছে। এছাড়া ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৪ জন এবং ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জন বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত গেড়ামাড়া গোহাইলবাড়ি সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত দেড় বছরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়–য়া চারজন, সপ্তম শ্রেণির ৯, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৯ ও ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ৯ জন বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আল মামুন।

মির্জাপুর উপজেলা সদরের আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় গত  দেড় বছরে অষ্টম শ্রেণির এক ও নবম শ্রেণির চার ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। এভাবে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নিজেদের শিক্ষার্থীদের একটা অংশের বাল্যবিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, গরিব মানুষ। স্কুলও বন্ধ। এই সময়ে মেয়েকে বাড়িতে বসিয়ে রাখাটা ভালো মনে করিনি। ভালো ছেলে পেয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়ে নিশ্চিত হয়েছি।

মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। বাড়িতে অলস বসে থেকে ‘দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে’ এমন চিন্তা করে অনেক অভিভাবক ভালো ছেলে দেখে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। তবে তাদের কেউ কেউ ক্লাস করছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাল্যবিয়ের তথ্য চেয়েছি। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর এ ব্যাপারে মন্তব্য করব।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, দেড় বছরে এ উপজেলায় কতজন শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে তার একটি তালিকা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত