উদ্বোধনের প্রায় সাত মাস হয়ে গেলেও মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে ভারতের কলকাতা সরাসরি যাওয়ার স্বাধীনতা সড়কটি এখনো চালু হয়নি। খুলে দেওয়া হয়নি দুই দেশের সীমান্ত ফটক। গত ১২ মার্চ শেষ হয় সড়কটির বাংলাদেশ অংশের নির্মাণকাজ। পরে ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ অবস্থানকালে দুই দেশের কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেশের একমাত্র ‘স্বাধীনতা সড়ক’টির নামকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এই সড়ক দিয়েই দেশের জাতীয় নেতারাসহ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কলকাতা হয়ে মুজিবনগর পৌঁছান। সেদিনই দেশের প্রথম সরকারের শপথ ও গার্ড অব অনার, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্তি অনুষ্ঠান হয় মেহেরপুরের মুজিবনগরে। ঐতিহাসিক সেই গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশ সড়কটির নাম দিয়েছে ‘স্বাধীনতা সড়ক।’
কিন্তু সড়কটির বাংলাদেশ অংশের নির্মাণ শেষে উদ্বোধনের প্রায় সাত মাস হয়ে গেলেও ভারত অংশের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাই ঐতিহাসিক এই সড়কটি খুলে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে, সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটির উভয়পাশে দুই দেশের প্রবেশমুখ অংশে চেকপোস্ট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। শুধু দুই দেশের নাগরিক পারাপারই নয়, সেখানে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরালো করতে মুজিবনগরে স্থলবন্দর নির্মাণ করা হবে। সে জন্য জমি ক্রয়ের কাজও শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঐতিহাসিক এই সড়কটি দেখতে প্রতিদিন পর্যটকরা ভিড় করছেন। বাংলাদেশ অংশের শেষ প্রান্তে বাঁশের ব্যারিকেডের কাছে গিয়ে ভারতীয় অংশের দিকে চেয়ে আছেন দর্শনার্থীরা।
দর্শনার্থী কলেজছাত্র কাজী বারিকুল ইসলাম শিমন বলেন, এই সড়কটির ওপর পা রাখলে অন্য ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তাই সড়কটি চালু কবে হবে, ভারতীয় অংশে কাজ শেষ হলো কি না এটা দেখতে উন্মুখ অনেকেই বারবার এখানে এসে ভিড় করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) জানিয়েছে, তাদের অর্থায়নে বাংলাদেশের মুজিবনগর অংশে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮ ফুট চওড়া পিচকরণ এবং দুইপাশে ৩ ফুট করে সড়ক শাসনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
দেশের প্রথম সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারী তৎকালীন আনসার সদস্য মুজিবনগরের হামিদুল মুন্সী (৭২) বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর মুজিবনগর তার যথার্থ মূল্যায়ন পাচ্ছে, এটা অনেক আবেগের।
মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, সড়কটি চালু হলে সহজেই মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের আবেগ ও স্মৃতির স্পর্শ নেওয়া যাবে। এতে পর্যটক ভিড় বেড়ে যাবে অনেকগুণ।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মনসুর আলম খাঁন বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের উপহার হিসেবে আমরা এই স্বাধীনতা সড়কটি পেয়েছি। সড়কটি চালু হলে স্বাধীনতা যুদ্ধে দুই দেশের অবদান ও অনুভূতি নতুন করে ফুটে উঠবে।
সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মেহেরপুর-১ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, সড়কটি খুলে দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। ভারত সরকারের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
