এক বছরের কাজ সাড়ে ৩ বছরেও শেষ হয়নি

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বনগজ এলাকায় সাড়ে তিন বছরেও একটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার এলাকাবাসী। অথচ সেতুটির নির্মাণ কাজ সমাপ্তের সময় ধরা হয়ছিল এক বছর। সেতু না থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে। এ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঠিকাদারের দাবি, সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন এবং বর্ষার কারণে নির্মাণ কাজে দেরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া বড়বাজার থেকে ধরখার পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার দূরত্বের সড়কটি দিয়ে ধরখার ইউনিয়নের ১৫-১৬টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রেলওয়ে স্টেশন, স্কুল-কলেজে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ এ সড়কটি ব্যবহার করে। জন গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বনগজ এলাকায় একটি খালের কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হতো। বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে পারাপার করতে হতো। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সেখানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০১৮ সনের ২৩ ফেব্রুয়ারি সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়, যার দৈর্ঘ্য ৯৬ দশমিক ১০ মিটার ও প্রস্থ সাড়ে ৫ মিটার। নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ৫ কোটি টাকা এবং সময় ধরা হয় এক বছর। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের পর ৩ বছর ৮ মাস শেষ হতে চললেও সেতুটির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি।

সরজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে উইং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর মাঝখানে ৬টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর পূর্ব দিকের অংশে ৩টি গার্ডার ডালাই করা হয়েছে। ৪ জন শ্রমিক সেতুতে কাজ করছেন। মানুষ নৌকায় চড়ে নদী পারাপার হচ্ছে।

নির্মাণ শ্রমিক সোহেল রানা বলেন, ‘সেতুর মূল কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন গার্ডার ঢালাই এবং ছাদ দেওয়া হবে। ৯টি গার্ডারের মধ্যে ৩টি ঢালাই হয়েছে।’

স্থানীয় আজমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, ঠিকাদার অল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কারণে এত দেরি হচ্ছে। মনে হয় আগামী ১ বছরেও কাজ শেষ হবে না।’

বৃদ্ধ হেবজু মিয়া বলেন, ‘এর চেয়ে বড় বড় সেতু তৈরি করতেছে সরকার। আর এ সেতুটি বছরের পর বছর ধরে শেষ হয় না। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এমন হচ্ছে।’

ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা চালক কামরুজ্জামান বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণ হলে আখাউড়া থেকে ধরখার পর্যন্ত সরাসরি যাত্রী নিয়ে যেতে পারতাম। এতে আমাদেরও আয় রোজগার বেশি হতো। যাত্রীদেরও অনেক সুবিধা হতো।’

সেতুর ঠিকাদার খাইরুল হাসান বলেন, ‘সেতুর ডিজাইনে ত্রুটির কারণে কাজ শুরু করতে অসুবিধা হয়। ডিজাইন পরিবর্তন করার পর কাজ শুরু করি। এখন কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। আগামী ৫/৬ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব।’

উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, ‘দুবার সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে যে গভীরতা হিসাব করে ডিজাইন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বর্ষার কারণে নদীর গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় ডিজাইন পরিবর্তন করতে হয়। এজন্য সেতুটি নির্মাণে দেরি হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত