সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর সদরের মনিরামপুর বাজারের কালীমন্দিরসংলগ্ন মার্কেটের সামনের সড়কের জায়গা দখল করে পাকা দ্বিতল স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পর শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান ওই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু মার্কেটের মালিক ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তিনি এ নির্দেশ অমান্য করে ওই স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন।
এ ঘটনায় মনিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই স্থাপনা অবিলম্বে অপসারণ করে সড়কের জায়গা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, শাহজাদপুর পৌর সদরের মনিরামপুর বাজারের কালীমন্দিরসংলগ্ন নতুন মাটি-থানার ঘাট সড়কের জায়গা দখল করে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি আবদুল হামিদ (হামিদ মার্চেন্ট) বহুতল পাকা মার্কেট নির্মাণ করেন। এতে ওই সড়কের প্রশস্ততা কমে যায়। পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম বিঘœ ঘটে। প্রায়ই পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। এছাড়া যানবাহনের দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়।
আরও জানা যায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শাহজাদপুর পৌরসভা ও শাহজাদপুর উপজেলা ভূমি অফিস যৌথভাবে ওই মার্কেটের সামনের প্রায় তিন ফুট অংশ ভেঙে সরকারি সড়কের জায়গা উদ্ধার করে। এর ১৪ বছর পর গত ১৪ অক্টোবর উদ্ধার হওয়া ওই সড়কের জায়গা আবারও দখল করে তিনি পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন।
মার্কেটটির মালিক আবদুল হামিদের ছেলে মাসুদ হোসেন বলেন, আমরা সড়কের জায়গা দখল করিনি। আমাদের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও এসিল্যান্ড নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। কিন্তু মাপজরিপ ও কাগজপত্র না দেখেই তিনি এখন নির্মাণাধীন পাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই পাকা স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া তাদের কাছে এ জায়গাসংক্রান্ত বৈধ কী কাগজপত্র আছে তা নিয়ে অফিসে হাজির হতে বলেছি। কিন্তু তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র না দেখিয়েই পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এ জন্য তাদের ওই পাকা স্থাপনা নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। তারা নিজ দায়িত্বে তা না ভাঙলে অবিলম্বে মাপজরিপ করে সড়কের জায়গা দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা ভেঙে ফেলা হবে।
