সিরাজগঞ্জ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্ত দাবির অনশন কর্মসূচিতে সবার সামনে এক শিক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গতকাল রবিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন এ ঘটনা ঘটান। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
প্রায় একই সময়ে আবিদ নামের আরেক শিক্ষার্থী ব্লেড দিয়ে হাতের রগ কাটার চেষ্টা করেন। তাকে নিবৃত্ত করার সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আমিনুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় পিপিডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শাহজাদপুর পৌর শহরের বিসিক বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যাম্পাসে ফেরত পাঠাতে চাইলে শিক্ষার্থীরা অস্বীকৃতি জানান।
আন্দোলন চলাকালে দুপুর পৌনে ১টার দিকে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সায়মন আহমেদ শাহীনের নেতৃত্বে কয়েকজন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চলে যান। এরপর পুলিশের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় অ্যাকাডেমিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা আটকা পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তারা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে রক্ষায় নানা অজুহাত দিচ্ছেন। ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা না হলে আমরা ক্লাসে ফিরব না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছুই শুনতে নারাজ। মহাসড়ক অবরোধ শেষে আমাদেরও অ্যাকাডেমিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি উপাচার্য আবদুল লতিফের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপরই গত শুক্রবার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিন্ডিকেট সভা মূলতবি করা হলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আমরণ অনশন শুরু করেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন পরীক্ষার হলে ঢুকে প্রথম বর্ষের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও শিক্ষিকা ফারহানার অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন। তাদের আন্দোলনের মুখে ফারহানা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।
