দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ২ দশমিক ৩৮ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে। ভূমিদস্যুদের কবল থেকে জমি উদ্ধারে অসহায় হয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার কবিরাজ। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো ভূমিদস্যুদের দ্বারা হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন শিক্ষকরা।
জানা গেছে, বীরগঞ্জ উপজেলার মাকড়াই মৌজার ৩০৫, ৩০৭ ও ৩০৮ নম্বর দাগের ১৬৪ ও ১৬৯ নম্বর খতিয়ানের বিদ্যালয়ের নিজস্ব ২ দশমিক ৩৮ একর জমি জনৈক আবদুল হাকিম ও তার ছেলে আবদুল মতিন দখল করে রেখেছেন। এমনকি সেই জমিতে ১৭টি পরিবারকে টাকার বিনিময়ে থাকার অনুমতিও দিয়েছেন। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে বিদ্যালয়ের ওই জমিতে বৃক্ষরোপণ করতে গেলে ভূমিদস্যরা বাধা দেয়। এরপর জমিটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আবদুল মতিন ও তার ছেলেসহ মোট ১৯ জনকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে আবদুল মতিন স্কুলে এসে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে যান। পরদিন বীরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার কবিরাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভূমিদস্যুদের কাছে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে অভিযোগ করলে আবদুল মতিন স্কুলে এসে আমিসহ শিক্ষকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগ দেওয়ার পর তারা আমাদের ওই জমিতে লাগানো বৃক্ষের সঙ্গে কলাগাছ রোপণ করেছেন, যাতে করে আমাদের বৃক্ষগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
জানতে চাইলে জমির দখলদার আবদুল মতিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জমিটি পাকিস্তান আমলের পর থেকে আমার বাবা লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। এখানে আরও অনেকেই লিজ নিয়ে ভোগদখল করছে। সর্বশেষ ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের লিজের টাকা পরিশোধ আছে। সোনালী ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে স্কুলের একটি অ্যাকাউন্টে এ টাকা জমা করা হয়।’ কলাগাছ লাগানোর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘যেই জমিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, সেই জমিতে আমি কলা আবাদ করেছি। কলার আবাদ শেষ হলে জমিটি আমি ছেড়ে দেব।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাকড়াই মৌজার জমিটি উদ্ধারের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। অচিরেই জমিটি উদ্ধারে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন প্রধান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরে জমিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
