শুঁটকির জন্য দুবলারচর যাত্রা শুরু জেলেদের

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৫ এএম

আসছে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দুবলারচরের শুঁটকি মৌসুম। এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় আছেন উপকূলের জেলে-মহাজনরা। সাগরে যেতে যে যার মতো প্রস্তুত করছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার। কেউ কেউ গড়ছেন নতুন ট্রলার, আবার কেউ পুরাতনটিকে মেরামত করে নিয়েছেন। সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকে চলে এসেছেন মোংলার মোংলা ও পশুর নদীতে। আজ মঙ্গলবার বন বিভাগের পাস নিয়েই হাজারো জেলে রওনা হবেন সাগর পাড়ের দুবলারচরে।

বঙ্গোপসাগর পাড়ে সুন্দরবনের দুবলারচরে শুরু হতে যাওয়া শুঁটকি মৌসুম চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। টানা পাঁচ মাস সেখানে থাকতে হবে জেলেদের। তাই সাগর পাড়ে গড়তে হবে তাদের অস্থায়ী থাকার ঘর, মাছ শুকানোর চাতাল ও মাচা। সেসব  তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে না সুন্দরবনের কোনো গাছপালা-লতাপাতা। তাই বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী চরের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া সব জেলে তাদের ট্রলারে করে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী।

সব প্রস্তুতি শেষে বন বিভাগের কাছ থেকে পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে নিজ নিজ এলাকা থেকে রওনা হয়ে মোংলা আসা জেলেদের সরাসরি যেতে হবে দুবলারচরে। যাওয়ার পথে সুন্দরবনের কোনো নদী-খালে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারবেন না সমুদ্রগামী এ জেলেরা। এছাড়া দুবলারচরে অবস্থানকালে সাগর ছাড়া সুন্দরবনের খালে প্রবেশ ও সেখানে মাছ ধরতে পারবেন না বলেও জানিয়েছে বন বিভাগ।

জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ ম-ল ও সাধারণ সম্পাদক জালাল শেখ বলেন, এবার দুবলার চরে শুঁটকি করতে মোংলার আড়াই থেকে তিনশ ট্রলার যাচ্ছে। ওই সব ট্রলারে জেলেরা এখান থেকে সব কাঠপাট নিয়ে যাচ্ছে সেখানে ঘর-মাচা করার জন্য। বন বিভাগের কাছ থেকে পাস নিয়ে মঙ্গলবার থেকে তারা সাগরে যেতে শুরু করবেন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে এবারও উপকূলের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার জেলে সমবেত হবেন দুবলার চরে। আর এ মৌসুমেও দুবলারচরে যাচ্ছে প্রায় দেড় হাজার মাছ ধরার ট্রলার। ট্রলার নিয়ে গভীর সাগর থেকে আহরিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাছাই করে শুঁটকি করবেন তারা। এ বছরও চরে জেলেদের থাকা ও শুঁটকি সংরক্ষণের জন্য ৯৫০/৬০টির বেশি ঘর এবং ৫০/৫২টি ডিপো স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত শুঁটকির মৌসুমে দুবলারচর থেকে বন বিভাগের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের নেতা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভের পাল্লা ভারী করেই মৌসুম শেষে বাড়িতে ফিরতে পারবেন উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার এসব জেলে-বহাদ্দাররা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত