নারী বিচারকরা আত্মগোপনে অপরাধীরা রাস্তায়

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৭ পিএম

আফগানিস্তানে নারী বিচারকদের পরিস্থিতি দেখে এখন অনেকের মুখ ফসকে বেরিয়ে আসবে ‘হোয়াট অ্যান আয়রনি!’ কারণ কাবুলের সদর দরজার চাবি তালেবানের হাতে যেতেই নিজেদের ভবিষ্যৎ দ্রুত আঁচ করে নিয়েছিলেন দেশটির নারী বিচারকরা। তড়িঘড়ি আত্মগোপনে যান তারা। ওদিকে হাইকমান্ডের নির্দেশে জেল থেকে একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীরা।

সম্প্রতি বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে ২৬ জন আফগান নারী বিচারক গ্রিসে পালাতে পেরেছেন। তাদের অনেকের সঙ্গে দেখা করেছে বিবিসি। নিরাপত্তার খাতিরে তাদের আসল নাম প্রকাশ করা হয়নি। ‘ফোন এলো মধ্যরাতে। পিকআপ লোকেশনটা জানার পর বলা হলো, এখনই বের হতে হবে।’ এরপর আগাগোড়া কালো চাদরে নিজেকে ঢেকে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে মধ্যরাতেই বাড়ি ছেড়ে বের হন আফগান বিচারক সানা। দেখে মনে হবে যেন গুরুতর কোনো মামলার আসামি ফেরারি হতে যাচ্ছে। বিবিসিকে বললেন, বাচ্চাদের ব্যাগে কিছু পোশাক, পাসপোর্ট, ফোন আর অর্থ ছিল। এর বাইরে যতটা সম্ভব ভরে নিয়েছিলেন খাবার। তিনি বলেন, ‘যখন বের হই, তখনো জানি না যে আমাদের গন্তব্য কোথায়। আমাদের শুধু বলা হয়েছিল, পথে নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি থাকতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতির সাপেক্ষে সবই মেনে নিতে হয়েছিল।’

সানাকে এভাবে তড়িঘড়ি পালাতে হলো কেন? বিবিসির সাংবাদিককে তিনি জানালেনÑ গত তিন মাস ধরেই প্রাণভয়ে দিন কাটাতে হয়েছিল। কারণ নারীর প্রতি সহিংসতার কারণে সানার আদালত যে লোকটাকে কারাগারে পাঠিয়েছিল, সানা শুনেছেন, সে নাকি এখন মুক্ত। তালেবানরা অনেক জেলের তালাই খুলে দিয়েছে। হাজার হাজার অপরাধীকে ছেড়ে দিয়েছে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। স্বভাবতই সানা ধরে নিয়েছেন, তার বিচারে কারাগারে যাওয়া লোকটা সবার আগে তাকেই খুঁজবে।

এ পর্যন্ত প্রায় ২২০ জন আফগান নারী বিচারক আত্মগোপনে গেছেন। গোপন স্থান থেকেই তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রতিদিনই মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে তালেবান মুখপাত্র বিলাল করিমিকে প্রশ্ন করেছিল বিবিসি। উত্তরে তিনি বললেন, ‘নারী বিচারকরা ভয়ভীতি ছাড়াই দিন কাটাতে পারবেন। কেউ তাদের হুমকি দিতে পারে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত