নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিস্তার হচ্ছে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে রক্ষায় মানববন্ধন করেছে ‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন হয়। এ সময় নর্থ সাউথের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন ও এমএ কাসেমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কম মূল্যের জমি বেশি দামে কেনা, ডেভেলপারস কোম্পানি থেকে কমিশন নেওয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, ১ লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স নেওয়া, নিয়ম ভেঙে ফান্ডের কোটি কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী ভর্তি, অতিরিক্ত বিভাগ খোলাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।
এছাড়া সংগঠনটির দাবি, ‘জঙ্গি মদদের’ পুরনো রূপে ফেরত গেছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন জুয়েল, সংগঠনের উপদেষ্টা সুফি সাগর সামস, বাংলাদেশ সংবাদপত্র (গণমাধ্যম) কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান তালুকদার, ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল হোসেন মুরাদ, ‘বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির’ চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম পাটোয়ারী, সাংবাদিক নেতা কালিমুল্লা ইকবালসহ অনেকে। মানববন্ধন শেষে দুদকে আট দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিও জমা দেন সংগঠনের নেতারা। দাবিগুলোর মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দিন আহমেদ ও এমএ কাসেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেপ্তার, সব আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও আজিম-কাসেমসহ সিন্ডিকেট সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা উল্লেখযোগ্য।
