সিরাজগঞ্জ শহরে পুলিশের সঙ্গে যুবদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে শহরের ইবি রোডে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সড়ক বন্ধ করে কর্মসূচি পালনে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার আওয়ামী লীগের কর্মীরা এসে যুবদল নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে যুবদলের পাঁচ কর্মী গুলিবিদ্ধ, সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ যুবদলকর্মী মতিকে উন্নত চিকিৎসর জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি মির্জা আবদুল জব্বার বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজেশ জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যুবদল নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পুলিশ কার্যালয়ের সামনের ফটক খুলে দিতে বললে কর্মীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বাধ্য হয়ে কর্মীরাও প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ শর্টগানের গুলি ছুড়লে টিটু, সুমনা, রুবেল, মুসা ও মতি গুলিবিদ্ধ হন। মতিকে ঢাকায় এবং বাকিদের সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হামলা করে বলে অভিযোগ তাদের।
সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, শহরের প্রধান সড়ক বন্ধ করে কর্মসূচি না করার অনুরোধ জানালে যুবদলকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফাসহ তিনজন আহত হন। পরে লাঠিচার্জ ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঝিনাইদহে পুলিশের বাধায় যুবদল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সকালে শহরের কলাবাগান এলাকা থেকে শোভাযাত্রা বের হওয়ার পরপরই পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শহরের এইচএসএস সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সভা করেন যুবদল নেতাকর্মীরা।
এতে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম মশিউর রহমান, সদস্য সচিব এম এ মজিদ, ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু প্রমুখ বক্তব্য দেন।
