ঝালকাঠির রাজাপুরে ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়নে খাল স্থায়ী ভাবে ভরাট করে ইটের পাঁজা তৈরি করেছেন প্রভাবশালী পাঁচ ভাই। এতে চারটি গ্রামের কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
ইউনিয়নের জগাইরহাট গ্রামের সরকারি বারানী খাল স্থায়ী ভাবে ভরাট করে তারা ইটের পাঁজা তৈরি করেছেন। এই পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই স্কুলশিক্ষক ও মেজো ভাই আ. কুদ্দুস স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থাকায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। তবে এবার ইউপি নির্বাচনে আ.কুদ্দুস হেরে যাওয়ায় খাল ভরাটের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, বারানী খালের উভয় পাশ থেকে প্রায় এক একর পরিমাণ ভরাট করে ইউপি সদস্য আ. কুদ্দুস, তার বড় ভাই স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইদ্রিস আলী, ছোট ভাই সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বের আলীসহ তাদের অপর দুই ভাই মিলে ইটের পাঁজা তৈরি করেছেন প্রায় তিন বছর আগে। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ার কারণে চোখের সামনে সরকারি খাল ভরাট করলেও পাঁচ ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস করেনি কেউ।
স্থানীয়রা আরও জানান, দুই বছর আগে এই জগাইরহাটের বারানী খাল কাটার জন্য একটি প্রজেক্ট এসেছিল। কর্তৃপক্ষ রাজাপুর সদর হাসপাতালের বিশ্বাস বাড়ি থেকে খালের মাথার অংশে কাটা শুরু করে মাঝ বরাবর স্থান পর্যন্ত দেড় একর পরিমাণ খাল কাটলেও প্রভাবশালী মেম্বার কুদ্দুস ও তার ভাইদের বাধার কারণে বাকি এক একর খাল ভরাট অবস্থায়ই থেকে যায়। গ্রামবাসীদের কেউ কেউ প্রথমে এর প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বারানী খালের শুরু থেকে শেষ মাথা পর্যন্ত খালের দুই দিকে শুক্তাগড়, জগন্নাথপুর, নারিকেল বাড়িয়া ও জগাইরহাট এই চার গ্রামের প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি রয়েছে। বৃষ্টির মৌসুমে ধানের এক আবাদি চাষ করতে পারলেও পানির অভাবে শুকনো মৌসুমে রবি শষ্য চাষ করতে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষক নয়ন বিশ্বাস বলেন, এই বারানী খালের দক্ষিণ পাশে আমার আট বিঘা জমি আছে। এই জমিতে আমি শুধু বৃষ্টির মৌসুমে একবার আমন ধানের চাষ করি। খালটি চলমান থাকলে বোরোসহ রবি শস্যের চাষাবাদ করতে পারতাম।
শের ই বাংলা স্মৃতি একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও মাসিক বিশাল বাংলার সম্পাদক জগাইরহাট এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম পল্টু বলেন, তিন বছর আগে জগাইরহাট বারানী খাল ভরাট করে ইউপি সদস্য ও তার ভাইয়েরা মিলে ইটের পাঁজা তৈরি করলেও বিষয়টি আমি গত চার পাঁচ দিন আগে জেনেছি। ইউপি সদস্য ও তার ভাইয়েরা প্রভাবশালী হওয়ায় এত বড় একটা ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও মামলা হামলার ভয়ে বিষয়টি এলাকার সবাই চেপে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এ এলাকার নব্বই শতাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর হওয়ায় এ খালটি উদ্ধার করা খুবই জরুরি।
এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য আ. কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, খালটি আগেই ভরাট হয়ে গিয়েছিল। আমি ভরাট খালটি আটকিয়ে তার পাশেই আমার জমিতে ইটের পাঁজা করেছিলাম যেটা আমার ভুল ছিল। আমি খালটির ভরাট অংশ দু এক দিনের মধ্যেই খনন করে দেব।
রাজাপুর উপজেলা ভূমি কমিশনার অনুজা মণ্ডল বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে শিগগিরই খাল উদ্ধার করে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
