সংবাদ সম্মেলনে কাদের

শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা পরিকল্পিত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৪ এএম

বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরপরই একের পর এক গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা বিএনপি-জামায়াতের অতীত সহিংস অপকর্মের পুনরাবৃত্তি কিনা তা খতিয়ে দেখতে জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন তিনি। গতকাল বুধবার নিজের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকায় হাফ ভাড়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাকের ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হলে আন্দোলন জোরদার হয়। এরপর গত সোমবার রাতে রামপুরায় বাসচাপায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হলে ক্ষোভ আরও বাড়ে। সেই রাতেই সড়কে অন্তত আটটি বাস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে ঘটনাটি ঘটে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে, এর ১২ মিনিট পর ১০টা ৫৭ মিনিটে নিরাপদ সড়ক চাই ফেইসবুক পেজের মাধ্যমে উক্ত স্থান থেকে লাইভ করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ১৭টি বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এটা কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পূর্বপরিকল্পিত? রাত ১১টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয় এবং দুর্ঘটনার স্থান থেকেই সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, খবরটি ছড়িয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ১৫টি বাসে আগুন দেওয়াও শেষ হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিষয়টি আসলেই দুর্ঘটনা কিনা? ঘটনার ১২ মিনিটেই নিরাপদ সড়ক চাই পেজ লাইভে গেল কীভাবে? নাকি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল? বাঁশেরকেল্লা ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব খবর পেয়ে গেল কীভাবে? আর বাকি ১০ মিনিটেই ১০টি গাড়িতে আগুন কীভাবে দেওয়া হলো? এত জনবল রাত ১১টার পর ঘটনাস্থলে এলো কীভাবে? তাহলে তারা কি আগেই প্রস্তুত ছিল?

কাদের বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ বা ফায়ার ব্রিগেড এত তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারে না, যত দ্রুত গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এত রাতে অল্পবয়সী শিক্ষার্থীরা কি এত দ্রুত পৌঁছে গেছে? এমনিতেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আন্দোলন চলছে, যারাই দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে তারা সবাই শিক্ষার্থী। গাড়িতে কি ছাত্র ছাড়া অন্য আর যাত্রী থাকে না? বিষয়টি মোটেই দুর্ঘটনা নয়। এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।

এদিন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ফাইভজি ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কাদের বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে ফাইভজি প্রযুক্তির সেবা পরীক্ষামূলকভাবে উদ্বোধন করবেন। সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি চালুর কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথমে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সরকারি কার্যালয় ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই সেবা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠাননির্ভর এলাকাসমূহে বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ফাইভজির মাধ্যমে চালকবিহীন গাড়ি চলবে রাস্তায়। ফাইভজি চালু হলে কল ড্রপের সংখ্যা কমে যাবে বলে আমরা আশা করি। মানুষ ও ডিভাইসের মধ্যে তৈরি হবে জিরো ডিসটেন্স কানেক্টিভিটি। বিগডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে ফাইভজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফাইভজি চালু হলে আমূল পরিবর্তন আসবে চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কিংবা অগমেন্টেড রিয়েলিটির এক্সপেরিয়েন্স নেওয়া ফাইভজির কল্যাণে আরও সহজ হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত