মাদারীপুরে সরকারি ভর্তুকির সার বেশি দামে বিক্রি করাসহ সার নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলারদের কাছে কিনতে গেলে ‘সারের মজুদ নেই,’ ‘বরাদ্দ কম’ ইত্যাদি বলে কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছে। এছাড়া, ডিলার পয়েন্ট দূরে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেশি হয়। ফলে কৃষকরা স্থানীয় বাজার থেকে চড়া দামে সার ক্রয় করছে এবং অনেক ডিলার পয়েন্টের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে জানা যায়, সরকারি ভর্তুকির টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার সুলভ মূল্যে বিক্রির কথা থাকলেও মাদারীপুরে কৃষকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে সার। মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার ডিলার পয়েন্টগুলোতে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ৭০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে ভর্তুকির এসব সার বিক্রি হচ্ছে। পরিবহন ব্যয়সহ নানা ধরনের ব্যয়ের দোহাই দিয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে।
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় সেপ্টেম্বর মাসে টিএসপি ৯০ মেট্রিক টন, ডিএপি ১১২৩ মেট্রিক টন, এমওপি ১৭৩ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়। অক্টোবর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয় টিএসপি ১৯৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ২৩৪০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৪৩০ মেট্রিক টন। নভেম্বর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয় টিএসপি ৩৯০ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩১৬০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৬৭০ মেট্রিক টন। চলতি ডিসেম্বর মাসে টিএসপি ৪০০ মেট্রিক টন, ডিএপি ২৪৬৩ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৬৫৬ মেট্রিক টন বরাদ্দ হয়।
জেলার মোট ডিলার ৯৩ জন তালিকায় থাকলেও অনেক ডিলারের বিক্রয় কেন্দ্রের হদিস পাওয়া যায়নি। চরমুগরিয়া এলাকায় ৩টি ইউনিয়নের ডিলারের ঠিকানা দেওয়া থাকলেও স্বপ্না ট্রেডার্স ছাড়া আর কোনো দোকানের খোঁজ মেলেনি।
এছাড়া পেয়ারপুর ইউনিয়নের কুমারটেক পয়েন্টে কোনো ডিলার নেই বলে জানান স্থানীয়রা। চরমুগরিয়ার মিজান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান একজন পেট্রল পাম্প ব্যবসায়ী। তার বিক্রয় কেন্দ্রটি কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে তা জানেন না স্থানীয়রা।
মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার ডিলার আলমগীর হোসেন খান (মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজ) মারা যাওয়ায় বাবুল চন্দ্র দাসকে দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মস্তফাপুর বাজারে দুটি বিক্রয় কেন্দ্র থাকার কথা থাকলেও একটি কেন্দ্রে (জগদীশ ট্রেডার্স) সার বিক্রি করতে দেখা যায়। রেজিস্টারে কৃষকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখে রাখার নিয়ম থাকলেও কোনো ডিলারই তা ঠিকমতো সংরক্ষণ করেন না। ইউনিয়ন পর্যায়ে সার সরবরাহ করার জন্য সাব ডিলার (লাইসেন্সধারী) থাকলেও তাদের সার দেন না মূল ডিলাররা।
কালিকাপুর ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম মোড়ল বলেন, ইউনিয়নের মধ্যে হলে আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারতাম।
ডিলার বাবুল চন্দ্র দাস বলেন, চাচাতো ভাইয়ের বরাদ্দটি আমি এনেছি। খুচরা বিক্রি করি না। আমরা সাব ডিলারদের দিয়ে দিই। বেশি দামে সার বিক্রি করি না।
মাদারীপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সার বেশি দামে বিক্রি করার কথা না। যাদের ডিলার পয়েন্ট নেই বা অন্য কোনো অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
