নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের টেঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে কলেজছাত্র মফিজুল ইসলাম (১৯) হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি ও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
সেই সঙ্গে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এ সময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিসহ ৩ জন পলাতক এবং বাকি ৭ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোনারগাঁয়ের জানপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকার মৃত জুলহাস মিয়ার ছেলে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৩৮)। এ ছাড়া তার ছোট ভাই আলমগীর (৩৫) ও বাসিতকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আসাদ, শাহ জামাল, জুয়েল, মমতাজ বেগম, কল্পনা বেগম, কামাল ও নজরুল ইসলাম।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জাসমীন আহমেদ বলেন, ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উল্লেখিত আসামিরা শহীদুল্লাহর বাড়িতে টেঁটা ও ধারালো ছুরিসহ হামলা চালান।
এ সময় শহীদুল্লার কলেজ পড়ুয়া ছেলে মফিজুল ইসলামকে টেঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন। একইসময় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এতে আরও কয়েকজন আহত হন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় শহীদুল্লাহ বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন। এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা ছিল।
আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নিহত মফিজুল ইসলামের বাবা শহিদুল্লাহ বলেন, আমার ছেলে মদনপুর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। আমার ছেলেকে তারা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এখন আমার একটাই দাবি যেন দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হয়।
