ওমিক্রন নিয়ে এখনই আতঙ্কের কোনো কারণ নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘দেশে গতকাল (শনিবার) দুজন ওমিক্রন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। তাদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তবে তারা ভালো আছে। এতে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’
গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের (ঢামেক) পাশে স্থাপন করা ভারতের উপহার দেওয়া অক্সিজেন প্ল্যান্ট, বহির্বিভাগের শিশু চিকিৎসা কর্নার এবং বেস্ট ফিডিং কর্নার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিনিয়ত কভিডের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট আসছে। তবে আমরা এর তৃতীয় ওয়েব (সংক্রমণের ঢেউ) চাচ্ছি না। দ্বিতীয় ওয়েবেই সমাপ্ত করতে চাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুবই ভাগ্যবান, এই ডিসেম্বরে বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান করার সব ব্যবস্থা করে ফেলেছি। সেই সঙ্গে মুজিববর্ষও পালন করছি। একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন বাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ ছাড়া ভারত স্বাধীনতার সময়ও সবভাবেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।’ সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকায় একটি বড় ধরনের ‘মা ও শিশু হাসপাতাল’ করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশেও মা ও শিশু হাসপাতাল করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘ভারত সব সময় বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। ভারত ও বাংলাদেশ পরিবারের মতো।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে জেলা হাসপাতালগুলোয়ও এই অক্সিজেন প্ল্যান্ট করা হবে। ইতিমধ্যে ৩০টি এসেছে, আরও ৪০টি আসবে। এর ফলে আমরা লিকুইড অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি পাব।’
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, ভারত দুটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট উপহার দিয়েছে। এর একটি ঢাকা মেডিকেলে স্থাপন করা হয়েছে। এটি পরীক্ষামূলকভাবে অক্সিজেন সাপ্লাইও দিচ্ছে। মিনিটে ৯৬০ লিটার অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে সক্ষম এটি।
এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞাসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।
