সুকুক ছেড়ে ৩০০০ কোটি টাকা নিল বেক্সিমকো

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৫১ পিএম

অবশেষে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেডের তিন হাজার কোটি টাকার সুকুকের চাঁদাগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মূলত সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই শরীয়াহ্ভিত্তিক গ্রিন সুকুকের বড় অংশ কিনে নিয়েছে। গত বুধবার বন্ডটির চাঁদাগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে বেক্সিমকো। সুকুকের বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় হবে বেক্সিমকো পাওয়ার লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান তিস্তা সোলার লিমিটেড ও করতোয়া সোলার লিমিটেডে। বন্ডটির ইস্যু ম্যানেজার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বেক্সিমকোর কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী জানুয়ারির শুরুতে বেসরকারি খাতের প্রথম এই সুকুকটির লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জে শুরু হতে পারে।

বেক্সিমকো সুকুকের ইস্যু ম্যানেজার হচ্ছে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস। ইস্যু ম্যানেজার সূত্রে জানা গেছে, বেক্সিমকো সুকুকের ৭০ শতাংশ কিনে নিয়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এর বাইরে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড সুকুকটির উল্লেখযোগ্য অংশ কিনেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২ হাজার ৪২৭ কোটি টাকার সুকুক কিনেছে। এ ছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা সুকুকের মাত্র ২ শতাংশেরও কম নিয়েছে। বেক্সিমকোর শেয়ারহোল্ডাররা নিয়েছেন এক শতাংশ।

গত ২৩ জুন কতিপয় শর্তসাপেক্ষে তিন হাজার কোটি টাকার সুরক্ষিত রূপান্তরযোগ্য অথবা অবসায়নযোগ্য সম্পদভিত্তিক গ্রিন সুকুক বন্ডটির অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বন্ডটির নাম হচ্ছে, বেক্সিমকো সুকুক আল ইস্তিসনা, অর্থাৎ এর মাধ্যমে অর্থায়নকারীর অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে এবং বাস্তবায়ন শেষে তার মালিকানা হবে অর্থায়নকারীর। এ বন্ডের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। বন্ডটির অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা ও ৫০টি বন্ডে একটি লট। মুনাফার ভিত্তি হবে ন্যূনতম ৯ শতাংশ বা সর্বশেষ বছরে প্রদত্ত লভ্যাংশের সঙ্গে মুনাফার পার্থক্যের ১০ শতাংশ বেশি।

৩ হাজার কোটি টাকার বেক্সিমকোর গ্রিন সুকুকটির মধ্যে ৭৫০ কোটি টাকা বিদ্যমান শেয়ারধারীদের কাছ থেকে এবং ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শেয়ারহোল্ডার বাদে অন্যান্য বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহের অনুমোদন দেয় এসইসি। অবশিষ্ট ৭৫০ কোটি টাকা আইপিও ইস্যুর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

অবশ্য গত বুধবার চাঁদাগ্রহণ সম্পন্ন হলেও শুরুতে বন্ডটিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম ছিল। গত ১৬ আগস্ট বন্ডটির পাবলিক অফারের সাবস্ক্রিপশন শুরু হলে নির্ধারিত সময়ে মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশেরও কম আবেদন জমা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর অর্থ উত্তোলনে এসইসির অনুমোদনক্রমে কয়েক দফা সাবস্ক্রিপশনের সময় বাড়ায় কোম্পানিটি।

শেষ পর্যন্ত ৭৫০ কোটি টাকার সুকুক আইপিওর মধ্যে ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ বা ৪২৩ কোটি টাকা চাঁদাগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। আর সুকুকের আন্ডাররাইটার ৭৫০ কোটি টাকার সুকুক আইপিওর ২০ শতাংশ বা ১৫০ কোটি টাকা কিনে নেয়। এতে করে মোট আইপিওর ৫৭৩ টাকা সাবস্ক্রিপশন হয়। আইপিওর সাবস্ক্রিপশন ১৭৭ কোটি টাকা কম হওয়ায় প্লেসমেন্ট অংশ ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৪২৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের পুরোটা কিংবা আংশিক শরীয়াহভিত্তিক সুকুকে বিনিয়োগের সুবিধা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যার মধ্যে বেক্সিমকোর ৩ হাজার কোটি টাকার সুকুক অন্তর্ভুক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সুবিধার পর ব্যাংকগুলো সুকুকে বিনিয়োগ করে এবং সফলভাবে বেক্সিমকোর সুকুক সাবস্ক্রিপশন করতে অবদান রাখে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত