বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান

পরে নাম ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মেয়রের

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:১১ এএম

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. শাহনেওয়াজ শাহানশাহ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চড়থাপ্পড় মেরেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ওই শিক্ষা কর্মকর্তার নাম মো. মেহের উল্লাহ। তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মেয়রের নাম দেরিতে ঘোষণা করায় তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাকে গালিগালাজের পাশাপাশি চড়থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে দেওয়ানগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় ঘোষণা মঞ্চ থেকে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহর নাম দেরিতে ঘোষণা করায় তিনি ক্ষিপ্ত হন। পরে মঞ্চে থাকা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহের উল্লাহকে গালিগালাজ ও চড়থাপ্পড় মারেন মেয়র। এ সময় অনুষ্ঠানের দর্শনার্থীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ প্রসঙ্গে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহের উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময় প্রটোকল অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা, দেওয়ানগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পরে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহর নাম ঘোষণা করি। পাঁচ নম্বরে মেয়রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে মেয়র জনসম্মুখে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং থাপ্পড় মারেন। এতে আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœ হয়েছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

শিক্ষা কর্মকর্তাকে চড়থাপ্পড় মারার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহ বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কিছু করিনি এবং বলিওনি। আমি শুধু পৌরসভার নাম এত পরে কেন তা জানতে চেয়েছি।’

তবে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষা কর্মকর্তাকে শারীরিক লাঞ্ছনার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন্নাহার শেফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৌরসভার মেয়র কর্র্তৃক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে জনসম্মুখে সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত