চীনের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর গতকালই প্রথমবারের মতো আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক নির্বাচনগুলোর চেয়ে এবারের নির্বাচন অনেকটাই ব্যতিক্রম। এবারের নির্বাচনে হংকং সরকারের আধিপত্য এতটাই প্রকট যে, এ নির্বাচনকে বলা হচ্ছে ‘দেশপ্রেমিকদের’ নির্বাচন। শুধু দেশপ্রেমিকরাই যেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করতে চীনপন্থি হংকং প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আর এসব পদক্ষেপ ও চীনের প্রচ্ছন্ন হস্তক্ষেপের কারণে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এবারের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ।
হংকংয়ের প্রশাসনপন্থি নেতারা শহরের বাসিন্দাদের এবারের প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গত বছরের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের পর এবারের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। গত শনিবার রাতেও হংকং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাসিন্দাদের কাছে ভোট চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়। একই সময়ে গণতন্ত্রপন্থি নেতাদের অনেকেই বিক্ষোভ হিসেবে এ ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন বাসিন্দাদের প্রতি। প্রসঙ্গত, কাউকে ভোট না দিতে উৎসাহিত করা হংকংয়ের আইনে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনসভার গত নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে মানুষ কম ভোট দেবে। গত নির্বাচনে ৫৮ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিল। এর আগে ২০০০ সালের নির্বাচনে দিয়েছিল ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। ১৯৯৭ সালে পেইচিংয়ের কাছে ব্রিটিশরা হংকংকে হস্তান্তরের পর ২০০০ সালের নির্বাচনেই সবচেয়ে কম ভোট পড়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের ভোটে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে সবচেয়ে কম ভোট পড়বে।
হংকংয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক টাম পো-চু জানান, তিনি আশাবাদী নতুন আইনসভা জনগণের পক্ষের হবে। হংকংয়ের মানুষকে যদি তারা নিজেদের মানুষ মনে না করেন, তাহলে এ ভোটের কোনো মানে হয় না। এদিকে হংকংয়ের নেতা ক্যারি লাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, কত শতাংশ ভোট পড়বে এ নিয়ে সরকার কোনো টার্গেট ঠিক করে রাখেনি। এ ভোটে চীনের নেতৃত্বের কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো কথা বলেননি লাম। এ বিষয়ে পেইচিংয়ের লিয়াজোঁ দপ্তরও কোনো বক্তব্য দেয়নি।
লামের বক্তব্যের আগে লিগ অব সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের কিছু বিক্ষোভকারী প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। এ সময় তাদের ‘জোর করে নীরব করা যায় না... স্বাধীনতার চেতনা’ ইত্যাদি সেøাগান দিতে দেখা যায়। গণতন্ত্রপন্থিরা যাতে রাস্তায় নামতে না পারে তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে ১০ হাজার পুলিশ ও ৪০ হাজার সরকারি নির্বাচনী কর্মচারী মোতায়েন করেছে। পুলিশ প্রধান রেমন্ড সিউ সাংবাদিকদের বলেন, শতাধিক পোলিং স্টেশনে যাতে মানুষ নিরাপদে ভোট দিতে পারে, তাই এই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চিফ সেক্রেটারি জন লি জানান, যারা জনগণকে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে চায় তারা বিশ্বাসঘাতক। উল্লেখ্য, গতকাল অন্তত ১০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় জনগণকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করার জন্য। তাদের কোন আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে গণতন্ত্রপন্থি নেতারা বলছেন, ওই ব্যক্তিদের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
