পুলিশ-চাঁদাবাজ দ্বন্দ্ব!

ফুটপাতের আড়াই শতাধিক দোকান উচ্ছেদ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:১৫ পিএম

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আড়াই শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), থানা ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। অভিযোগ উঠেছে ফুটপাত থেকে তোলা ১৫ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে সওজ ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় দুই চাঁদাবাজের দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় দুই চাঁদাবাজ রিপন ও জামাল দোকানপ্রতি দৈনিক দুইশ টাকা করে আড়াইশ দোকান থেকে মাসে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন।

ফুটপাত ব্যবসায়ী নাসির বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সওজ কর্মকর্তা ও পুলিশ ম্যানেজ করার কথা বলে রিপন ও জামাল এককালীন ১৫ লাখ টাকা চাঁদা নেন। দোকান বহাল রাখতে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও সওজ কর্মকর্তাদের টাকা দেওয়ার কথা বলে এ টাকা নেন। কিন্তু প্রশাসনের কাউকে না দিয়ে রিপন ও জামাল এসব টাকা আত্মসাৎ করায় দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।’

চাঁদার বিষয়টি স্বীকার করে রিপন বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ ম্যানেজ করতে ছয় লাখ আশি হাজার, সওজ কর্মকর্তাদের এক লাখ আর বিশ হাজার টাকা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমানকে মুরগি কিনে দিই। বাকি টাকা অন্যান্য খাতে ব্যয় করি।’ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। চাঁদাবাজরা আমার নাম ভাঙিয়েছে। তাই আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি হয় ফুটপাত থাকবে না হয় আমি থাকব।’ হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা টিআই (প্রশাসন) মশিউর আলম বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ কোনো টাকা নেয়নি এবং কখনো নেবে না।’ নারায়ণগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি আমাদের কেউ আর্থিক সুবিধা নেয়নি। কেউ নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত