রাজবাড়ীর পাংশার কসবামাজাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে এ-সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন মো. রাকিবুল ইসলাম নামের ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
তিনি কসবামাজাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এই ইউপিতে আগামী ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত আছে।
জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, গত সোমবার ছিল প্রতীক বরাদ্দের দিন। তিনি আনারস প্রতীক পেয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো গোলমাল হয়নি। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দের দিন রাত ১০টার দিকে র্যাব-৮-এর কিছু সদস্য র্যাবের একটা গাড়ি ও একটা মাইক্রোবাস নিয়ে রাকিবুলের কয়েকজন কর্মীর বাড়িতে যায়। র্যাব সদস্যরা তার কর্মীদের হুমকি দিয়ে বলে, আনারস প্রতীকের নির্বাচন করলে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। ৫ জানুয়ারির আগে যেন কেউ বাড়ির বাইরে না যায়। র্যাব সদস্যরা প্রথমে বাংলাট গ্রামের আনোয়ার হোসেন টিক্কা এবং নাদুরিয়া গ্রামের বাদশা ম-লের বাড়িতে যায়। তাদের মধ্যে বাদশা ম-ল কসবামাজাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য (মেম্বর) পদপ্রার্থী। র্যাব সদস্যরা পরে লোহাবাড়িয়া গ্রামে রাকিবুলের নির্বাচনী অফিসে যায়। সেখানে তখন অনেক লোকজন উপস্থিত ছিল। তাদের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সুফল মাহমুদকে ভোট দিতে বলেন র্যাব সদস্যরা।
এ প্রসঙ্গে বাদশা ম-ল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে আমার বাড়িতে র্যাব গিয়েছিল। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। তারা আমার বাড়ি তল্লাশি করেছে। সুফলের নির্বাচন করতে বলেছে। নৌকার নির্বাচন না করলে তারা আবার আসলে আমার বউ বিধবা হবে বলে জানিয়েছে। আমি ভয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করি নাই।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের দিন রাতেই আমার একনিষ্ঠ কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। র্যাব ক্রয়ফায়ারের ভয় দেখিয়েছে। আমি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন চাই।’
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাকিবুলের কর্মীদের ক্রয়ফায়ারের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন র্যাব-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বিভিন্ন এলাকায় টহল দেওয়া হচ্ছে। কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি। যাদের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ আছে? থাকলে দেখাতে বলেন।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমানের ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।
