ইউক্রেনে আগ্রাসী পুতিন

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৫০ পিএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তার দেশের সম্পূর্ণ অধিকার আছে ইউক্রেনের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার। ইউক্রেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো যদি মস্কোকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে, তাহলে রাশিয়াও পাল্টা আগ্রাসী পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুতিন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাও রাশিয়াকে পাল্টা হুঁশিয়ারি জানিয়ে ইউক্রেন সীমান্তে সামরিক স্থাপনা বাড়াতে শুরু করেছে। ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপকে বিরল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইউক্রেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা অচলাবস্থায় রাশিয়ার পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই এবং পশ্চিমারা তাদের ‘আক্রমণাত্মক লাইন’ ত্যাগ না করলে মস্কো কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। সেখানে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দোরগোড়ায় ইউক্রেনে কী করছে? আর তাদের বোঝা উচিত আমাদের আর পিছু হটার কোনো জায়গা নেই। তারা কি ভেবেছে আমরা শুধু অলসের মতো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখব? আমাদের পশ্চিমা সহকর্মীদের আক্রমণাত্মক লাইন অব্যাহত থাকলে আমরা উপযুক্ত সামরিক-প্রাযুক্তিক প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা নেব এবং অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপের জন্য কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাব।’

কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এর আগে দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিবকোফের করা মন্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রিবকোফ বলেছিলেন, ন্যাটোর একই ধরনের পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া ফের ইউরোপে মধ্যবর্তী-পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কাছে বেশ কিছু দাবি-দাওয়া পেশ করে রাশিয়া, এখন তাদের প্রস্তাবের দ্রুত জবাব দেওয়ার জন্য পশ্চিমকে চাপ দিচ্ছে দেশটি। তারা পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের তৎপরতা কঠোরভাবে সীমিত করার দাবি জানিয়েছে। ইউক্রেনকে কখনোই ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়া হবে না, তার নিশ্চয়তাও চেয়েছে।

সীমান্তে লাখো সেনা নাগালে রাখার মাধ্যমে রাশিয়া খুব দ্রুতই ইউক্রেনে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটি। ইউক্রেন আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে না জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো। পুতিন ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ইস্যুটি নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শল্টজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ন্যাটোর অগ্রসর হওয়া থামানো ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যাতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। পুতিন বরাবরই বলে আসছেন যে, রাশিয়া ইউরেশিয়ান অঞ্চলে নিরাপত্তার সমতা ও অবিভাজ্য ব্যবস্থা চান। এ ব্যবস্থার অধীনে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চাইছে রাশিয়া।

ভিয়েনাতে এখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও নিরাপত্তা প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। উভয়পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলে আসছেন, ন্যাটো ও ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আপস করবে না। বাইডেনের এ কড়া সুরে তাল মিলিয়ে পুতিনও তাই ইউক্রেনে হামলার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি করলেও বিশ্বনেতাদের আসলে কিছু করার থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত