নামাজে অনর্থক কাজ ও বেশি বেশি নড়াচড়া করা এমন এক আপদ, যা থেকে অনেক মুসল্লিই বাঁচতে পারে না। কারণ তারা আল্লাহর নিম্নোক্ত আদেশ প্রতিপালন করে না, ‘তোমরা আল্লাহর জন্য অনুগত হয়ে দাঁড়াও।’ সুরা বাকারা : ২৩৮
কোরআনে কারিমে মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘নিশ্চয় সেই সব মুমিন সফলকাম, যারা নিজেদের নামাজে বিনীত থাকে।’সুরা আল মুমিনুন : ১-২
নামাজে অমনোযোগী লোকেরা আল্লাহর এ বাণীর মর্মার্থ বুঝে না। তাই নামাজে আদবের পরিপন্থী অনেক কিছু তারা করে থাকে। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেজদার মধ্যে মাটি সমান করা যাবে কি-না জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, নামাজ অবস্থায় তুমি কিছু মুছতে পারবে না, একান্তই যদি করতে হয় তাহলে কংকরাদি একবার সমান করতে পারবে।’ সুনানে আবু দাউদ : ৯৪৬
আলেমরা বলেছেন, নামাজে নি®প্রয়োজনে বেশি মাত্রায় লাগাতারভাবে নড়াচড়া করলে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং যারা নামাজে নিরর্থক খেলায় লিপ্ত হয় তাদের অবস্থা কেমন হতে পারে? তাদের তো দেখা যায়, তারা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছে। অথচ ঘড়ির সময় নিরীক্ষণ করছে কিংবা কাপড় সোজা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথবা আঙুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করছে। চোখ দিয়ে ডানে-বামে তাকাচ্ছে। আবার আকাশের দিকেও তাকাচ্ছে, অথচ ওপরের দিকে তাকানোর কারণে তাদের চোখ যে উপড়ে ফেলা হতে পারে কিংবা শয়তান যে তাদের নামাজের কিছু অংশ ছিনিয়ে নিচ্ছে এ ব্যাপারে তাদের মনে কোনো উদ্বেগ নেই। মিশকাত : ৯৮২-৮৩
নামাজে ধীর স্থিরতা
হাদিসে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় চুরি হচ্ছে নামাজে চুরি। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর সেই ব্যক্তি, যে নামাজে চুরি করে। সাহাবিরা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সে কীভাবে নামাজে চুরি করে? তিনি বললেন, সে রুকু সেজদা পরিপূর্ণভাবে করে না।’ মিশকাত : ৮৮৫
আজকাল অনেক মুসল্লিকে দেখা যায়, তারা নামাজে ধীরস্থির ভাব বজায় রাখে না। ধীরেসুস্থে রুকু-সেজদা করে না। রুকু থেকে যখন মাথা তোলে তখন পিঠ সোজা করে দাঁড়ায় না এবং দুই সেজদার মধ্যে পিঠ টান করে বসে না। খুব কম মসজিদই এমন পাওয়া যাবে যেখানে এ জাতীয় দুই চারজন পাওয়া যাবে না। অথচ নামাজে ধীর স্থিরতা বজায় রাখা নামাজের অন্যতম রুকন। স্বেচ্ছায় তা পরিহার করলে কোনোমতেই নামাজ শুদ্ধ হবে না। সুতরাং বিষয়টি বেশ গুরুতর। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যে পর্যন্ত না রুকু-সেজদায় তার পৃষ্ঠদেশ সোজা করবে, সে পর্যন্ত তার নামাজ যথার্থ হবে না।’ মিশকাত : ৯৭৮
কাজটি যে অবৈধ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যে মুসল্লি এরূপ করে সে ভৎর্সনার যোগ্য। হজরত আবু আবদুল্লাহ আশআরি (রা.) বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) একদা সাহাবিদের সঙ্গে নামাজ আদায়ের পর তাদের একটি দলের সঙ্গে বসা অবস্থায় ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামাজে দাঁড়াল। সে ঠোকর মেরে রুকু-সেজদা করছিল। তা দেখে নবী কারিম (সা.) বললেন, তোমরা কি এ লোকটিকে লক্ষ করেছ? এভাবে নামাজ আদায় করে কেউ যদি মারা যায়, তবে সে মুহাম্মদের মিল্লাত ছাড়া অন্য মিল্লাতে মারা যাবে। কাক যেমন রক্তে ঠোকর মারে সে তেমনি করে তার নামাজে ঠোকর মারছে। যে ব্যক্তি রুকু করে আর সেজদায় গিয়ে ঠোকর মারে তার দৃষ্টান্ত সেই ক্ষুধার্ত লোকের ন্যায়, যে একটি দুটির বেশি খেজুর খেতে পায় না। দুটি খেজুরে তার কতটুকু ক্ষুধা মিটাতে পারে?’ সহিহ্ ইবনে খুযায়মা : ৬৬৫
জায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, একবার হুজায়ফা (রা.) জনৈক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন, সে রুকু-সেজদা পূর্ণাঙ্গ রূপে আদায় করছে না। তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি নামাজ আদায় করোনি। আর এ অবস্থায় যদি তুমি মারা যাও, তাহলে যে দীনসহ আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছিলেন তুমি তার বাইরে মারা যাবে।’-সহিহ্ বোখারি : ৭৯১
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন জনৈক দ্রুত নামাজ আদায়কারীকে লক্ষ করে বললেন, ‘যাও, নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি তো নামাজ আদায় করোনি।’-মিশকাত : ৭৯০
