বন উজাড় ও বনের জমির দখল ঠেকাতে যাদের দায়িত্ব পালন করার কথা গাজীপুরের বন উজাড় হচ্ছে তাদেরই সহযোগিতায় আর বেহাত হচ্ছে বনের জমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসৎ কর্মকর্তার জন্য গাজীপুরের বন আজ ধ্বংসের পথে। সেই সঙ্গে দূষণের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বনাঞ্চল। নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বন বিভাগের কর্মীরা ঘুরেফিরে তদবির করে আবার গাজীপুরেই ফিরে আসছেন পোস্টিং নিয়ে।
গাজীপুরের শ্রীপুর সাতখামাইর বিটের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু শ্রীপুরের ছাতির বাজার এলাকাতেই গত দুই বছরে কমপক্ষে কয়েকশ ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মিত হয়েছে গেজেটভুক্ত বনভূমিতে। বর্তমান প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষিজমি হিসেবে ব্যবহৃত বনভূমি দখলমুক্ত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। অথচ সাতখামাইর বিটে গেজেটভুক্ত বনভূমি অসাধু বন কর্মচারীদের সহায়তায় কোথাও ধানক্ষেত, কোথাও আবার সবজিক্ষেত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব দখলকৃত বনভূমি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে মাসোহারাভিত্তিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বনকর্মীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ উঠেছে, সাতখামাইর বিট কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে এসব ঘরবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ফরেস্ট গার্ড শেখ শহীদুল ইসলামসহ বিটের অন্য কর্মচারীরা। সম্প্রতি এসব ঘুষ বাটোয়ারার খবর বন বিভাগের উচ্চ পর্যায়ে চাউর হলে ছাতির বাজার এলাকায় লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালায় বন বিভাগ। অথচ অভিযানে ছাতির বাজার এলাকায় বনভূমি দখলকারী তিনজনের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শেখ শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে আরও জানা গেছে, ছাতির বাজার এলাকায় গেজেটভুক্ত বনে যারা পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন তারা স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েই এসব বাড়ি-ঘর নির্মাণ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বিটের ফরেস্ট গার্ড শেখ শহীদুল ইসলাম বন বিভাগের জমি দখলকারীদের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২৫ জুলাই বরখাস্ত হন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি চাকরি ফিরে পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। তার কথোপকথনের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে তিনি গর্বের সঙ্গে বলছেন, দুর্নীতি করেই যাবেন। এভাবে একের পর এক অসাধু বন কর্মচারীকে ঘুরেফিরে গাজীপুরে পোস্টিং দিয়ে জেলার নৈসর্গিক বনাঞ্চল বেহাতের সুযোগ করে দিচ্ছে বন অধিদপ্তর।
তবে অভিযুক্ত ফরেস্ট গার্ড শেখ শহীদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সাতখামাইর বিট অফিসার নোয়াব হুসেন সিকদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘মিথ্যা।’ আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি এবং ঘরবাড়ি ভেঙে দিচ্ছি। ফরেস্ট গার্ড শহীদুলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাকে বারবার সতর্ক করেছি। তার বিরুদ্ধে রেঞ্জারের কাছে রিপোর্ট করেছি।
শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর মো. বজলুর রহমান বলেন, বিট অফিসারকে একাধিকবার শহীদুলের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দিতে বলেছি। কিন্তু তিনি দেননি। আমরা ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
