খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব ‘শুভ বড়দিন’। এ উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই মোংলার বিভিন্ন এলাকার গির্জাগুলোতে একে একে শুরু হয় প্রার্থনা।
তবে প্রচণ্ড শীতের কারণে এবার গির্জাগুলোতে প্রার্থনার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে রাত ১২টায় প্রার্থনা শুরু হলেও এবার তা স্থানভেদে শুরু সন্ধ্যার পর পরই।
সেন্ট পলস্ ধর্মপল্লীর আয়োজনে পৌর শহরের শেলাবুনিয়ার প্রধান ও কেন্দ্রীয় সাধুপল ক্যাথলিক গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা শুরু হয় রাত ১১টায়।
গির্জায় ঘণ্টা/ঘণ্টি বাজানোর মধ্য দিয়ে প্রার্থনার আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়। প্রার্থনা অনুষ্ঠানের শুরুতে গির্জার পালক পুরোহিত ফাদার জানিয়েই মণ্ডল সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে যিশুখ্রিষ্টকে স্মরণ করেন।
এ সময় মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেন। প্রার্থনা করা হয় ইতালিয়ান খ্রিষ্ট ধর্মযাজক ফাদার মারিনো রিগনের আত্মার শান্তি কামনায়।
এ ছাড়া খ্রিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রয়াত ও অসুস্থদের জন্যও বিশেষ প্রার্থনা করেন সকলে মিলে। প্রার্থনা শেষে গির্জার সামনের গোশালা উন্মুক্ত করে সেখানে যিশুখ্রিষ্টকে স্মরণ ও সম্মান করে শ্রদ্ধা জানান ছোট বড় সকলেই।
এবার শেলাবুনিয়ার প্রধান এই ক্যাথলিক গির্জাসহ মোট ৪০টি গির্জায় অনুষ্ঠিত হয় বড়দিনের এ প্রার্থনা।
শেলাবুনিয়া, মাছমারা, মালগাজী, চিলা ও বুড়িরডাঙ্গাসহ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত অন্যান্য এলাকাগুলোতেও নানা আনুষ্ঠানিকতা এবং উৎসবের মধ্যদিয়ে বড়দিন উদ্যাপিত হচ্ছে।
শনিবার সকালেও গির্জায় গির্জায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বড়দিনের প্রার্থনা।

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও বাড়ি-ঘরগুলোতে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
এদিকে বড়দিন উপলক্ষে বিগত বছরগুলোতে গির্জা ও খ্রিষ্টান পল্লিগুলোতে পুলিশের কঠোর নজরদারিসহ বিশেষ টহল ব্যবস্থা থাকলেও এবার তার কিছু ছিল না। তাই এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা।
শেলাবুনিয়া এলাকার হিউবাট সরকার বলেন, ‘শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে আমাদের গির্জার মূল গেট থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে রাস্তার উপরে মদ খেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বেশ কয়েকজন মাতলামি করছিল। রাস্তা আটকিয়ে তারা সেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করায় সেখান থেকে ভ্যানে ও পায়ে হেঁটে গির্জায় আসতে লোকজনকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। আর যারা মদ খেয়ে মাতলামি করেছে তারা খ্রিষ্ট ধর্মের নয়। যদি বড়দিন উপলক্ষে এখানে (গির্জায়) কিংবা টহলে পুলিশ থাকত তাহলে এমন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতো না। এর আগে তো পুলিশ দেখেছি, এবার কি হলো বুঝতে পারছি না।’
শেলাবুনিয়ার ক্যাথলিক গির্জায় প্রার্থনায় আসা পলাশ মণ্ডল ও শাওন হালদার বলেন, রাত সাড়ে ১১টার একটু আগে দেখেছি এখানে একজন না দুইজন পুলিশ এসেছেন। একজনই হবে, কারণ পুলিশের পোশাকে একজনকেই দেখেছি। যাকে দেখেছি তার হাতে লাঠি ও অস্ত্র কিছুই দেখতে পায়নি। এখানে ডিউটিতে এসেছে নাকি অন্য কাজে তা বোঝা মুশকিল।
এ ছাড়া মাছমারা ও মালগাজী গির্জা এলাকাসহ আশপাশের কোথাও পুলিশের ডিউটি কিংবা টহল না থাকার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ওই এলাকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন।
এদিকে শুভ বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্ট সম্প্রদায়ের লোকজনকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলহাজ্ব বেগম হাবিবুন নাহার, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আ. রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার।
