বাংলাদেশ থেকে আয়ের পুরোটাই পাঠাতে পারবেন বিদেশিরা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৩৩ এএম

ভারতসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক বর্তমানে বাংলাদেশে কাজ করছে। এদের সংখ্যা কত এবং এরা বছরে কত টাকা তাদের দেশে পাঠাচ্ছে (বহির্মুখী রেমিট্যান্স) তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা বিভিন্ন দেশের সংবাদ ও গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলছে, বাংলাদেশ যে পরিমাণ রেমিট্যান্স বিদেশ থেকে পায় তার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আবার চলেও যায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি কর্মীরা খুবই নগণ্য পরিমাণ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠায়। তাদের ধারণা, বাংলাদেশে ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা বেশি। এদের একটি বড় অংশ দুই-তিন মাস পরপর বাড়িতে যাওয়ার সময় সঙ্গে করে নগদ ডলার নিয়ে যায়। এ কারণে ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠানোর লেনদেন কম।

এ ধরনের প্রবাসী কর্মীদের বাংলাদেশ থেকে তাদের নিজ দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে তাদের আয়ের শতভাগ অর্থই ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশি কর্মী তার নিট আয়ের ৮০ শতাংশ অর্থ বছরের যেকোনো সময় তার নিজ দেশের স্বজনদের কাছে পাঠাতে পারবেন। আগে এই সীমা ছিল ৭৫ শতাংশ।

গতকালের সার্কুলারে আরও বলা হয়, বিদেশি কর্মীদের আয়ের বাকি ২০ শতাংশও যদি সঞ্চয় হিসাবে থেকে যায়, সেই টাকাও তারা ব্যাংকিং চ্যানেলে নিজেদের দেশে পাঠাতে পারবেন। তবে এই টাকাটা মূলত অর্থবছর বা করবর্ষ শেষে কর দেওয়া সাপেক্ষে পাঠানো যাবে। এ ধরনের সুযোগ এতদিন ছিল না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই সুবিধা দেওয়ার ফলে এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো বাড়তে পারে। ভারতের কর্মীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ দিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই সুবিধা দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের তথ্যে বলা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকরা ব্যাংকিং চ্যানেলে নিজেদের স্বজনদের কাছে প্রায় ১০ কোটি ডলারের মতো রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যদিও ভারতের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে দেশটি বছরে ৪০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পায়।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশে অনেক বড় বড় গার্মেন্ট ও অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের টপ লেভেলে কিছু বিদেশি কর্মী বিশেষ করে ভারতীয়রা কাজ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন। সেখানে অনেক কর্মীর ভরণ-পোষণও দেওয়া হয়। যে কারণে তাদের অনেকের আয়ের পুরো টাকাই থেকে যায়।

তবে এই টাকা বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অফিশিয়াল চ্যানেল ব্যবহার কম হচ্ছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের দেড় কোটি লোক দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। গত বছর বাংলাদেশ রেমিট্যান্স পেয়েছে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ১৬৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স আহরণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও বলছেন, বিদেশি কর্মীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো বাড়লে দেশে নগদ ডলারের চাহিদা কিছুটা কমবে। কেননা, আগে তারা ব্যাংকিং চ্যানেলে সব টাকা নিতে পারতেন না। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে যে টাকা থাকত তা ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে নিয়ে যেতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত