মুজিব উদ্যানে শায়িত জয়নাল হাজারী

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩৬ পিএম

ফেনীর আলোচিত রাজনীতিক জয়নাল আবেদীন হাজারীর দ্বিতীয় জানাজা ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হয়েছে। মৃত্যুর আগের অসিয়ত মোতাবেক জানাজা শেষে মুজিব উদ্যানের বকুল তলায় দাফন করা হয় তাকে।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তার জানাজা হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী সমর্থকেরা অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন ফেনী জহিরিয়া মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি ইলিয়াস হোসেন। এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে জয়নাল হাজারীর মরদেহ এসে পৌঁছালে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীসহ হাজারো মানুষ তাকে এক নজর দেখতে সেখানে ভিড় করেন।

জানাজায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খুরশিদ আলম সুজন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হুইপ আবু সায়ীদ আল মাহমুদ স্বপন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, জানাজায় ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঁইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলীম, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহামুদুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে জয়নাল হাজারীর মরদেহ বহনকারী গাড়ি ফেনী পৌর শহরের মাস্টারপাড়া হাজারী বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় মরদেহ তার বাসভবন মুজিব উদ্যানে নেওয়া হয়। জানাজা শেষে তিনি সেখানেই সমাহিত হন।

এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গত সোমবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ব্যক্তিজীবনে জয়নাল হাজারী চিরকুমার ছিলেন।

১৯৪৫ সালের ২৪ আগস্ট ফেনী শহরের সহদেবপুর নিবাসী হাবিবুল্লাহ পণ্ডিতের বাড়িতে আব্দুল গণি হাজারী ও রিজিয়া বেগমের সংসারে জন্ম হয় জয়নাল আবেদীন হাজারীর।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় বিশ বছরের বেশি সময় ধরে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফেনী-২ (সদর) আসন থেকে ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশ ছেড়ে পালান জয়নাল হাজারী।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ফিরে আসেন তিনি। এরই মধ্যে পাঁচটি মামলায় ৬০ বছরের সাজা হয় তার। এরপর ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করলে হাজারী আট সপ্তাহের জামিন পান। পরে ১৫ এপ্রিল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। প্রায় চার মাস কারাভোগের পরে ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর মুক্ত হন তিনি। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদে পদ পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত