গাজীপুরের সড়কগুলোয় অটোরিকশার আতঙ্ক

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:০৫ এএম

কয়েক লাখ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গাজীপুর। এগুলো ছোট গাড়ির সঙ্গে তো পাল্লা দেয়ই, কখনো কখনো বাস-ট্রাকের সঙ্গেও পাল্লা দেয়। বড় গাড়িগুলোকে সাইড না দিয়ে রাস্তার ঠিক মাঝখান দিয়ে চলে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। মাঝেমধ্যে তাল সামলাতে না পেরে উল্টেও পড়ে যায়। ব্যাটারিচালিত এ রিকশাভ্যানগুলো এখন ৩৩০ বর্গমাইলের গাজীপুরে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব অবৈধ অটো রিকশা ও ইজিবাইকের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের আদেশ থাকলেও তা বাস্তবায়ন নেই নগর কিংবা জেলার কোথাও।

বৈধ অনুমোদন না থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের কিছু সদস্যকে ম্যানেজ করে বিপজ্জনক এ যানগুলো শহরসহ পুরো জেলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলা-উপজেলার অলিগলি তো আছেই, অনেক সময় মহানগরের সদর রাস্তায়ও এগুলোকে দাপটের সঙ্গে চলতে দেখা যায়।

সম্প্রতি হাইকোর্ট সারা দেশের ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক বন্ধের জন্য আদেশ দিলেও এসব অবৈধ যান সড়ক থেকে উঠানোর কোনো কার্যক্রম গত শনিবার পর্যন্ত চোখে পড়েনি। তবে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, শিগগির ব্যাপক পরিসরে এসব অবৈধ যানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে পুলিশ।

আবার, এসব অটো রিকশাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে চালানো হচ্ছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা যাচ্ছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পকেটে। আর এসব চাঁদাবাজির হাত বদলকে কেন্দ্র করে চলে দাঙ্গা-হাঙ্গামাও।

সরকারিভাবে কোনো হিসাব না থাকলেও একাধিক রিকশা গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে শুধু গাজীপুর শহরে প্রায় তিন লাখ অবৈধ অটো রিকশা রয়েছে। অনুমোদন ছাড়াই গাজীপুর জেলায় চলছে এসব ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। কিছু শ্রমিক সংগঠনের স্টিকার লাগিয়ে ওই রিকশাগুলো চালানো হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, এগুলোকে পুঁজি করে প্রভাবশালীরা মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন। ব্যাটারিচালিত এ রিকশাগুলো সাধারণ রিকশার চেয়ে দ্রুতগতিতে চলে। দ্রুতগতির জন্য সাধারণ রিকশার চেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ রিকশায় ভাড়াও বেশি।

জেলার টঙ্গী উপজেলার স্টেশন এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, গতি বেশি হওয়ায় এগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটায়। গাজীপুর মহানগরীতে সালনা হাইওয়ে থানা ও নাওজোর হাইওয়ে থানার সামনে দিয়েই মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে দিয়ে চলছে এসব যানবাহন।

সূত্র জানায়, এ জেলায় রিকশা ভ্যানচালক ও মালিকদের ৪-৫টি সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের স্টিকার নিয়েই চলছে রিকশা ও অটোরিকশা। অটোরিকশাগুলোর ব্যাটারি চার্জ দিতেও অনেক বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি রিকশায় ১২ ভোল্টের তিন থেকে চারটি ব্যাটারি রয়েছে। গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে প্রতিদিন। এগুলো হচ্ছে চোরাই লাইন দিয়ে।

ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো মহাসড়কেও চলছে। অথচ ওই সব মহাসড়কে রিকশা চলাচল নিষেধ। এ কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া মহাসড়কে এসব রিকশার কারণে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।

অবৈধ এ যানবাহনের বিষয়ে গাজীপুরের সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, অবিলম্বে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে। এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিগগির আমরা ব্যাপকহারে অভিযানে নামছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত