চলতি অর্থবছর রপ্তানির মোট লক্ষ্যমাত্রা ৫১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি আরও বলেছেন, ২০৩০ সালের আগেই এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। বিপুল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কার্যক্রমে যুক্ত হলে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নিশ্চিত করাও সম্ভব।
গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ‘২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২২’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভিসি এ এইচ এম আহসান, বাংলাদেশের ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দীন প্রমুখ।
টিপু মুনশি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিশ্রমের ফল আজকের বাংলাদেশ। আমরা এভাবে চলতে থাকলে ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েশন ও ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অন্তত দুই বছর আগেই আমরা অর্জন করতে পারব। তিনি আরও বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত অর্থনীতির দেশ হবে। তখন মাথাপিছু আয় সাড়ে ১২ হাজার আসবে। একই সঙ্গে ২৬তম অর্থনীতির দেশ হবে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এগিয়ে চলছি।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যমেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পণ্য এসেছে। আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। ৫১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমরা এর চেয়ে বেশি রপ্তানি করতে পারব।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য বড় জায়গা। কারণ ভিয়েতনামে শ্রমিক স্বল্পতার জন্য আশপাশের দেশগুলো আমাদের দেশে বিনিয়োগের জন্য আসছে। দেশের ব্যবসায়ীরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। এছাড়া ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়েও মানুষের আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। নতুন বছরের প্রথম মাসজুড়ে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারকরা ক্রেতা দর্শকদের মধ্যে আমাদের সক্ষমতার বার্তা তুলে ধরবেন।
বাণিজ্য সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিদেশি দেশগুলো এ মেলায় অংশ নিয়ে আমাদের পণ্য সম্পর্কে ধারণা পাবেন। ফলে রপ্তানি বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি বলেন, করোনায় সরকারের প্রণোদনা ও নীতি সহায়তার ফলে আমাদের অর্থনীতির সব সূচক করোনার আগের অবস্থানে পৌঁছে গেছে। আমদানি, রপ্তানি ও বেসরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। গত জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় ২৫, আমদানি ব্যয় ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। আমাদের একটি খাত থেকেই যদি ৩২ বিলিয়ন ডলার আয়সহ ৪৫ লাখ কর্মসংস্থান হয়। তাহলে অন্য খাতগুলো মানোন্নয়ন করে সক্ষম করতে পারলে এক বছরের মধ্যে রপ্তানি ২০০-৩০০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া সম্ভব।
