দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে ঝরে গেল তিন কিশোরের নতুন ক্লাসে পড়ার স্বপ্ন। গতকাল রবিবার নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়ার পর মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়ে ট্রাকচাপায় লাশ হলো দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কাজী নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী শাহরিয়ার, শাহাদত ও মুজাহিদ। তাদের মধ্যে শাহরিয়ার ও শাহাদত ভর্তি হয় নবম শ্রেণিতে। মুজাহিদ ভর্তি হয়েছিল অষ্টম শ্রেণিতে। স্থানীয় মাকড়াই গ্রামের এই তিন কিশোরের মৃত্যুতে গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেলাটিতে এদিন ট্রাকচাপায় আরেক ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বরিশালেও ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। জেলাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে দুই যাত্রীর। পাবনায় নসিমনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এক রিকশাচালক। এ ছাড়া কক্সবাজারের উখিয়ায় ৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সংশ্লিষ্ট এলাকার দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি ও সংবাদাতাদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে দিনাজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরে কাজী নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ক্লাসে ভর্তি হয়েই বাবার মোটরসাইকেলে করে দুই বন্ধু শাহাদত ও মুজাহিদকে নিয়ে ঘুরতে বের হয় শাহরিয়ার। দুপুর দেড়টার দিকে তারা দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের চাকাই নামক স্থানে একটি মাইক্রোবাসকে ওভারটেক করার সময় ঠাকুরগাঁওগামী একটি ট্রাক তাদের পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে শাহাদত ও শাহরিয়ার শুভ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গুরুতর আহত মুজাহিদকে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
বীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, ট্রাকটি দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছে। ট্রাক ও এর চালককে আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে এদিন সকালে জেলার বিরামপুর উপজেলার পৌর শহরের দোয়েল মোড়ে পিকআপের চাপায় রজিব উদ্দিন (৬২) নামে এক সবজি বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। নিহত রজিব বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের উত্তর কাটলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কাটলা বাজারে সবজি বিক্রি করতেন।
বিরামপুর থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত জানান, রজিব উদ্দিন পৌর শহরের কাঁচাবাজার থেকে সবজি নিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে আমাদের বরিশাল সংবাদদাতা গতকাল জেলাটিতে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জনের নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। সেসব দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে জেলার মূলাদি উপজেলার হিজলা সড়কের কাজিরচর নলিকান্দি এলাকায়। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে একটি মোটরসাইকেলকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মোটারসাইকেলের ৩ আরোহী মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলটিকে ট্রাকটি ধাক্কা দিলে সেটি সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে পার্শ্ববর্তী জলাশয়ে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের আরোহী হারুন নলী (৪৫), ইদ্রিস হাওলাদার (৬০) এবং রাজিব নলী (২৩) নিহত হন।
মুলাদী থানার ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান বলেন, মীরগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলযোগে বড়ইয়া কাজিরচর যাচ্ছিলেন ওই তিনজন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। তাদের লাশ উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিন বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বাকেরগঞ্জের বটতলা এলাকায় গাছের সাথে ধাক্কা লেগে বাস দুর্ঘটনা রন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ওই দুর্ঘটনায় আহত হন অন্তত ১০ বাসযাত্রী।
এদিকে গত শনিবার রাতে একই উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গাড়িচালক রমজান আলী (২৬) নিহত হয়েছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন মিলন বলেন, রমজানের মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আমাদের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আলীগঞ্জ এলাকায় সিএনজি ও ট্রলির মধ্য মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে উপজেলার রানীগঞ্জ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজন জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আমির আলী (৪৫) আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীগঞ্জগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে।
জগন্নাথপুর থানার এস আই ওবায়েদ উল্লাহ জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রলির চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বেপরোয়া গতির একটি নসিমনের চাপায় এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার বিকেলে ঈশ্বরদী শহরের ডাক বাংলোর সামনের সড়কে এই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম নাসিম হোসেন (৬০)। তিনি শহরের ফতেমোহাম্মদপুর পানির ট্যাংক এলাকার বাসিন্দা।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে নসিমনটি আটক হলেও চালক পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৯টার দিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের দীঘির বিল এলাকায় মাইক্রোবাসের সাথে সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেনহলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলির বিল এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেলিম মুন্সীর ছেলে মো. সোহাগ (২০) এবং একই এলাকার আলী আহমদের ছেলে মোশারফ হোসেন (২১)। তাদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
একই দিন দুপুর ১২টার দিকে উখিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় মো. রিফাত (৮) নামে একটি শিশু সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হয়েছে। তবে তার অবস্থা শঙ্কাজনক নয়।
