পাপাচারীদের সঙ্গে ওঠাবসা
দুর্বল ইমানের অনেক মানুষ পাপাচারী ও দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় ওঠা-বসা করে। এমনকি আল্লাহর দীন ও তার অনুসারীদের প্রতি যারা অহরহ ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করে, তাদের সঙ্গেও তারা দহরম-মহরম সম্পর্কে রেখে চলে, তাদের মোসাহেবি করে। অথচ এ কাজ যে হারাম তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন আপনি তাদের আমার কোনো আয়াত বা বিধান সম্পর্কে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন দেখতে পান তখন আপনি তাদের থেকে সরে থাকুন, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তাহলে স্মরণে আসার পর জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গে আপনি আর বসবেন না।’ সুরা আল-আনআম : ৬৮
বর্ণিত আয়াতে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে, কোনো বৈঠকে যদি পবিত্র কোরআন ও ঐশী নির্দেশ নিয়ে ঠাট্টা ও উপহাস করা হয়, তাহলে সেখানকার আলোচনার বিষয়বস্তুকে পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। আলোচনার বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা সম্ভব না হলে, ওই বৈঠক ছেড়ে চলে যেতে হবে, যাতে মুসলমানদের সামনে কাফেররা আল্লাহকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করার সুযোগ না পায়।
আর যদি কখনো এমন হয় যে, মনের ভুলে অথবা না বুঝে কেউ এ ধরনের বৈঠকে অংশ নিয়ে ফেলেছেন, তাহলে বিষয়টি উপলব্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে ওই বৈঠক ত্যাগ করতে হবে। তখন এটা ভাবলে চলবে না যে, বৈঠকের মাঝখানে বৈঠক ত্যাগ করাটা দৃষ্টিকটু। এ আয়াতে আল্লাহ বিরোধীদের তৎপরতায় অংশ নিতে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাপ কাজ বন্ধের জন্যও চেষ্টা চালাতে হবে। শত্রুদের আল্লাহ, ধর্ম ও রাসুলকে অবমাননা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
সুতরাং ফাসিক-মুনাফিকদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক যত গভীরই হোক কিংবা তাদের সঙ্গে সমাজ-সামাজিকতায় যতই মজা লাগুক এবং তাদের কণ্ঠ যতই মধুর হোক তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করা বৈধ নয়।
হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তাদের ইসলামের দাওয়াত প্রদান করে, তাদের বাতিল আকিদার প্রতিবাদ করে কিংবা তাদের অন্যায় থেকে নিষেধ করার জন্য তাদের কাছে গমনাগমন করে সে উক্ত নির্দেশের আওতাভুক্ত হবে না। স্বেচ্ছায়, খুশিমনে ও কোনো কিছু না বলে নীরবে তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাখাতেই সব সমস্যা।
অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যদি তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্টও থাক, তবে (জেনে রেখ) আল্লাহ দুষ্কৃতকারী সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট নন।’ সুরা আত-তাওবা : ৯৬
গ্রন্থনা : মাওলানা রকিবুল হাসান
