পুনর্বাসন না করে হকারদের উচ্ছেদ করার প্রতিবাদে ফের মহাসড়ক অবরোধ করে উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েক হাজার হকার।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে হকাররা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ করে রাস্তায় বসে পড়েন।
এর আগে উত্তর রবীন্দ্র সরণিতে জড়ো হয়ে, সেখান থেকে উত্তরা রাজলক্ষী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা ১৮ আসনের সংসদ সদস্য হাবিব হাসানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
উচ্ছেদ বন্ধ ও স্থায়ী পুনর্বাসন দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। এরপর দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা।
এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং ময়মনসিংহ- ঢাকা মহাসড়ক পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই ঘণ্টা অবরোধে দুই পাশের সড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
একাধিক হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, করোনার সময় তারা ব্যবসা করতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সমিতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তারা এই ব্যবসা করেন। আর তাদেরকে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে তারা পথে বসে পড়বেন। অনেকেই ব্যাংক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে ঋণ আনা হয়েছে তা পরিশোধ করতে পারবে না।
হকারদের নেতা রাসেল মন্ডল দেশ রূপান্তর বলেন, কয়েক দিন ধরে উত্তরায় বিভিন্ন এলাকায় হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আমাদেরকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন দিতে হবে অথবা নির্দিষ্ট একটি সময়ে করে দিতে হবে। গত ডিসেম্বর মাসের দুই তারিখে হকাররা আন্দোলন করেন। পরে ঢাকা ১৮ আসনের এমপি আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাবিব হাসান হকারদের তিন দিনের মধ্যে সমাধান করে দেবে বলে আশ্বাস দিলে আন্দোলনরত হকাররা চলে যান। আজকেও এমপি মহোদয় সাত দিনের সময় চেয়েছেন।
হঠাৎ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে এমন বিক্ষোভ করায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ জনগণ।
মিলি আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, আজ আমার একটি ইন্টারভিউ ছিল। হকারদের এই আন্দোলনের কারণে আমি সেখানে যেতে পারিনি। আমার পাশে একজন অসুস্থ রোগী ছিলেন। উনাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য তারাও অপেক্ষায় আছেন। যেনতেনভাবে রাজধানীতে এমন আন্দোলন-সংগ্রাম লাখো মানুষের ক্ষতির কারণ।
হকারদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে ঢাকা- ১৮ আসনের সংসদ সদস্য হাবিব হাসানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
