মাদারীপুর বিসিক শিল্প নগরে ১৩ করাতকল!

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০১ এএম

মাদারীপুরের বিসিক শিল্প নগরীর ১৩টি করাতকলের সবগুলোই অবৈধ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব অবৈধ করাতকল।

বন বিভাগের তথ্যমতে, মাদারীপুর সদর উপজেলায় ৫৮টি করাতকল আছে, যার মধ্যে লাইসেন্স আছে মাত্র ১৮টির। বাকি ৪০টিই অবৈধ। এরমধ্যে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে ৩টি করাতকলের মালিকপক্ষ। বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত ১৩ করাত কলের কোনোটিরই লাইসেন্স নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, করাতকল স্থাপনের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও করাতকলের মালিকরা মানছেন না সেই আইন। ইচ্ছে হলেই খেয়াল-খুশিমতো বসানো হচ্ছে করাতকল। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনও রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও অবৈধ করাতকল বন্ধে নেওয়া হচ্ছে না দীর্ঘমেয়াদি কোনো পদক্ষেপ। এসব অবৈধ করাত কলের ছড়াছড়িতে স্থানীয় অসাধু চক্রের কবলে প্রতিনিয়ত উজাড় হচ্ছে বন।

সরেজমিনে বিসিক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কুমার নদের কোল ঘেঁষে স্থাপন  করা হয়েছে করাত কলগুলো। পাশে রাখা হয়েছে সারি সারি গাছের গুঁড়ি। এরমধ্যে মেহগনি, শিশুকানি, আকাশী, চাম্বল, রেইনট্রি কড়ই, আমসহ বিভিন্ন গাছ রয়েছে। ট্রলার বোঝাই করে আনা হচ্ছে এসব গাছ।

মাদারীপুর ফ্রেন্ডস অফ নেচারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজন মাহমুদ বলেন, ‘হাতের নাগালেই এসব অনুমোদনহীন করাতকল পেয়ে লোকজন গাছ বেশি কাটছে। গাছ হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী উপাদান। এভাবে বেশি বেশি গাছ কাটা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর। সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, অনুমোদনহীন করাত কলগুলো যেন বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি চাইলেই যেন করাতকল বসানোর অনুমতি দেওয়া না হয়।’

বিসিক শিল্প নগরীর করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি বাচ্চু খান বলেন, ‘কিছুদিন আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করেছে এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন করাত কলগুলোর অনুমোদন নিয়ে চালানোর জন্য। আমরা যত দ্রুত সম্ভব বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাই।’

মাদারীপুর বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিসিকে করাতকল স্থাপনের কোনো বৈধতা নেই। অবৈধভাবে এগুলো স্থাপন করা হয়েছে। অবৈধ করাত কলের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দেশ রয়েছে। আমরা এর কপি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও অফিসে পাঠিয়েছি। এসব অবৈধ করাতকল সরাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘অবৈধ করাত কলগুলো বন্ধে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রয়োজনে ওখানকার সব বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত