পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় ট্রিপল মার্ডার: মা ও মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৩৭ পিএম

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে খুলনার কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামে ট্রিপল মার্ডার হয়। 

সোমবার দুপুরে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুুপার মোহাম্মাদ মাহবুব হাসান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার হত্যার অন্যতম আসামি আব্দুর রশিদ গাজী। সে খুব চতুর। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সে পলাতক ছিল। টিমওয়ার্ক ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে শনিবার (৮ জানুয়ারি) যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলা থেকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এ মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রশিদ গাজী জানিয়েছে একই গ্রামের মো. জিয়াউর রহমান ও রাজিয়া সুলতানার পরকীয়া প্রেমে হাবিবুল্লাহ বাধা হয়ে দাঁড়ান। সুলতানার স্বামী কুদ্দুস গাজী খুলনা শহরে কাঁচামালের ব্যবসার সুবাদে বাড়িতে কম যাতায়াত করেন। এ সুযোগে জিয়ার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে সে। রাজিয়া সুলতানা হাবিবুল্লার প্রতিবেশী হওয়ায় তার চোখে বিষয়টি ধরা পড়ে। এ কারণে তিনি তাদের পরকিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ান। ঘটনার বছরখানেক আগে জিয়াকে হাতেনাতে ধরে ফেলার পর সুলতানা ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবুরকে বটি দিয়ে কোপ মারে। পরে এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে জিয়াউর হাবিবুল্লার ওপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় সে হাবিবুরকে শায়েস্তা করতে পরিকল্পনা আঁটতে থাকে। পরে জিয়াউর ও রশিদের নেতৃত্বে গত ২৫ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে গিয়ে প্রথমে হাবিবুল্লাহ, তার স্ত্রী ও মেয়ের হাত-পা বাঁধে। এরপর মা-মেয়েকে ধর্ষণের পর তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়। হত্যাকাণ্ডে কমপক্ষে ছয়জন সরাসরি অংশ নেয়। 

ভিকটিম হাবিবুরের সঙ্গে অন্যান্য আসামিদের আর্থিক লেনদেন ছিল উল্লেখ্য করে পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, নিহত হাবিব আর্থিক প্রতারণারও শিকার হয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের পানিতে ফেলে দেওয়ার কারণে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে যায়। মামলার অন্যান্য আসামিদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুব দ্রুত সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। 

পুলিশ সুপার জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী বিউটি ও ১১ বছরের মেয়ে হাবিবা সুলতান টুনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরের দিন স্থানীয় আব্দুল মাজেদের বাড়ির পাশ্ববর্তী একটি পুকুর থেকে তাদের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত হাবিবের মা কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে কয়রা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বাবা, মা ও মেয়েসহ ট্রিপল হত্যাকাণ্ডটি কয়রা উপজেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পুলিশ নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার জিয়া, সুলতানা, নাঈম ও কিবরালকে আটক করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত