মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জিতে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশার যে উচ্চতায় উঠেছিলে ক্রিকেটাররা তা থেকে ধপ করে পড়ল যেন ক্রাইস্টচার্চে। নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেটে ৫২১ রানে ইনিংস ঘোষণার জবাবে ১২৬ রানেই গুটিয়ে গেছে গতকাল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ইনিংস টিকেছে মাত্র ৪১.২ ওভার। অথচ এই দলটিই কদিন আগে প্রথম টেস্টে ১৭৬ ওভারের বেশি ব্যাট করে ৪৫৮ রান গড়েছিল। ৩৯৫ রানে পিছিয়ে থাকা মুমিনুলদের এই ম্যাচ বাঁচানো বড় কঠিন। চিন্তায় চেয়েও ভয়ের কারণ টেস্টের তিন দিন এখনো বাকি। প্রায় ৪০০ রান করে নিউজিল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠানো কঠিন কাজ। বাংলাদেশকে নিউজিল্যান্ডের প্রকৃতি উদ্ধার করতে পারে। তৃতীয় দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আজ বৃষ্টিতে ভাসলেও আরও দুদিন বাকি থাকবে ম্যাচের। তাই কতটা লড়াই ফিরিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশ সেটাই প্রশ্ন। বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ অ্যাওয়েল প্রিন্স অবশ্য ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছেন। প্রথম ইনিংসের ভুলগুলো মাথায় রেখে দ্বিতীয়বার লম্বা সময় ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখতে চান তিনি। বাংলাদেশ কি পারবে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ফিরিয়ে আনতে?
ক্রাইস্টচার্চের সবুজ পিচের ভয়াবহতা টের পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটাররা গতকাল। চা-বিরতির আগে ১০ ওভারের মধ্যেই ২৭ রানে ৫ উইকেট নাই হয়ে যায়। সাউদি-বোল্টরা মিলে এই উইকেটে রোলার কোস্টার চালান বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের ওপর। নুরুল হাসান সোহান ও ইয়াসির আলির সংক্ষিপ্ত লড়াই না থাকলে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ পার হতো কি না সন্দেহ। প্রতিকূলতার মধ্যেও দারুণ লড়াই করেছেন দুজনে। ৬০ রানের জুটিতে এই উইকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হয় তা যেন দেখিয়ে দিয়েছেন অন্যদের। মুশফিকুর রহিমের ইনজুরিতে একাদশে সুযোগ পাওয়া স্বতঃস্ফূর্ত সোহান জুটির সিংহভাগ রান তোলেন। ২০১৭ সালে এই হ্যাগলি ওভালে এক ইনিংসে ৪৭ রান করা ডানহাতি এবার ৬২ বলে ৪১ রান করেন, বাউন্ডারি মেরেছেন ৬টি। সাউদি-জেমিসনদের বাউন্সারে পুল আর সোজা বলে সোহানের কাভার ড্রাইভগুলো ছিল দেখার মতো। দারুণ ইতিবাচক খেলেও অবশ্য দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরিটা পাননি। সাউদির দারুণ ইনসুইংয়ে শেষ পর্যন্ত থামতে হয় তাকে।
সোহানের মতো দ্রুত রান তোলায় নজর ছিল না ইয়াসিরের। ১১ রানে ৪ উইকেটের সময় নেমে শান্ত মাথায় খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন এই যুবা। ৯৫ বলে ৭ চারে ৫৫ করেন। শেষ পর্যন্ত সতীর্থের অভাবে রান তোলার চেষ্টায় জেমিসনকে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন। এ দুই ব্যাটসম্যান ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান দু-অঙ্কের ঘরে রান তুলতে পারেননি। তাদের স্কোরগুলো যেন টেলিফোন নম্বর- ৭, ০, ৪, ০, ৮, ৫, ২। শূন্যহাতে ফেরা ব্যাটসম্যান দুজন অভিষিক্ত নাঈম শেখ ও অধিনায়ক মুমিনুল।
এর আগে ল্যাথাম ৩৭৩ বলে ৩৪ চার ও ২ ছক্কার ইনিংসে কিউই অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন। এই মাঠের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও এটি। ১৬৬ বলে ১০৯ রান করে পঞ্চম টেস্টে তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন ডেভন কনওয়ে। এছাড়া ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলা রস টেলর করেন ২৮। দর্শকদের তুমুল করতালি এবং বাংলাদেশ দলের গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে ক্রিজে যান এই ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের এবাদত ও শরিফুল ২টি করে উইকেট নেন।
