মহান আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের মর্যাদা কতটুকু? সহজ উত্তর, এটা পরিমাপ করা অসম্ভব। তবে কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে। দুনিয়ায় প্রায়ই দেখা যায়, সামান্য জায়গা-জমির জন্য মানুষ আপন ভাইকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না। মুমিমের গায়ে হাত তুলতে অন্তর কাঁপে না। কিছু টাকা-পয়সা হয়ে গেলে সে অপরকে আর মানুষ বলে মনে করে না, বাঁকা চোখে তাকায়! কিন্তু ওই মানুষ জানে না, মহান রবের কাছে আমার-আপনার কাছে ঘৃণিত, ছোট, গরিব, অসহায় মুমিনের সম্মান কতটুকু? মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।’ সুরা আন নিসা : ৯৩
মহান আল্লাহ কতটা ক্রুদ্ধ হলে এমন শাস্তির বাণী শোনাতে পারেন! মানুষের ভুল হতেই পারে। হয় তো আপনি রাস্তায় হাঁটছেন কোনো মুমিন ভাই ভুলক্রমে আপনার সঙ্গে ধাক্কা খেল। অথবা কেউ ভুলে এমন একটি কাজ করে ফেলল, যার জন্য আপনার ন্যূনতম ক্ষতি হয়নি। কিন্তু আপনি রাগে, ক্ষোভে তাকে গালি দিতে লাগলেন। আপনি ক্ষমতাসীন হওয়ায় জনসম্মুখে দু-একটা থাপ্পড়ও বসিয়ে দিলেন। এটা কি আপনি ঠিক করলেন? হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি (আল্লাহর অবাধ্যাচরণ) এবং হত্যা করা করা কুফরি।’ রিয়াদুস সলেহিন : ১৬২৮
এ ছাড়াও বর্ণিত আছে, কবিরা গোনাহের মধ্যে একটি হলো কোনো মুমিনকে বিনা দোষে গালমন্দ করা। আপনি যে মুমিনকে গালমন্দ করলেন, থাপ্পড় মারলেন কিংবা হত্যা করলেন, সে মুমিনের সম্মান আল্লাহর কাছে হতে পারে অধিকতর। আপনার গায়ের চামড়া ফরসা হওয়ায় কালো চামড়ার মুমিন ভাইকে আপনি মানুষই মনে করছেন না। ঘৃণা করছেন, বাঁকা চোখে তাকাচ্ছেন। অথচ হজরত বিলাল (রা.) ছিলেন কালো, শুদ্ধ উচ্চারণ করতে পারতেন না। অথচ তার আজান বন্ধ হওয়ায় হজরত জিবরাইল (আ.) এসে হজরত রাসুলুল্লাহকে বললেন, আসমানে আজান শোনা যাচ্ছে না কেন? অথচ সেদিন আজান ঠিকই হয়েছিল। তবে, আজান দিয়েছিল অন্য সাহাবি, হজরত বিলাল (রা.) নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে।’ সুরা ত্বিন : ৪
কেউ যদি একজন মুমিনের বিদায়বেলায় তার জানাজায় উপস্থিত হয়, তার জন্য এক কেরাত সওয়াবের কথা বর্ণিত আছে। এক কেরাত সওয়াব এক উহুদ পাহাড়ের সমতুল্য। আর সেই সওয়াব পাচ্ছেন শুধুমাত্র একজন মুমিনের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য! দাফন পর্যন্ত উপস্থিত থাকলে পাচ্ছেন দুই কেরাত। (সুবহানাল্লাহ) এগুলো কারও বানানো কথা নয়; হাদিসের কথা।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও পুণ্যের আশায় কোনো মুসলমানের জানাজার অংশগ্রহণ করে এবং দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সঙ্গে থাকে, সে দুই কেরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। প্রতিটি কেরাত হলো উহুদ পর্বতের মতো। আর যে ব্যক্তি শুধু তার জানাজা আদায় করে, তারপর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই চলে আসে, সে এক কেরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। সহিহ্ বোখারি : ৪৭
একজন মুমিনের বিদায়বেলায় আল্লাহতায়ালা করেছেন কত আয়োজন! যাতে বিদায়বেলায় মানুষ উপস্থিত হয়, সে জন্য শুনিয়েছেন উহুদ পাহাড় পরিমাণ সওয়াবের বাণী! আর এই সওয়াব দিচ্ছেন, যাতে মুমিন বান্দার বিদায়বেলা যেন কাফের, মুশরিকদের মতো না হয়। কাফের, মুশরিকদেরও মৃত্যু হয়। তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে নিকটাত্মীয়রাও আসে। কিন্তু তাদের জন্য সওয়াব লেখা হয় না। সওয়াব লেখা হয় মুমিন-মুসলমানের জন্য। মুমিন-মুসলমানের সম্মানার্থে আল্লাহতায়ালা এই সওয়াব আমাদের দিচ্ছেন। এবার উত্তরটি আপনিই দিন, রবের কাছে একজন মুমিনের সম্মান কতটুকু?
