চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। আর আগের অর্থবছরের পুরো সময়ের তুলনায় এ খাত থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৪ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রির মাধ্যমে ৩৩ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া আগের ১৪ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকার দেনা পরিশোধ করে সরকার। সেই হিসাবে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে আলোচিত সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা।
এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংক থেকে নিট ১০ হাজার ১৩২ কোটি টাকা ঋণ করে সরকার। ওই অর্থবছরের পুরো সময় জুড়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ করে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ সামলে নিতে না নিতে ওমিক্রন বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনো রাজস্ব আদায়ের হার সেভাবে বাড়েনি। তবে সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ ও বার্ষিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন (এডিপি) থেমে নেই। এজন্য অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে মেগাপ্রকল্পগুলোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এজন্য সরকার অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিচ্ছে। ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ নেওয়া যায় বলেই সরকার এদিকে যাচ্ছে।
তাছাড়া সঞ্চয়পত্র থেকেও আগের মতো ঋণ হচ্ছে না সরকারের। গত সেপ্টেম্বরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়ে আনতে বিনিয়োগসীমা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরের মাস অক্টোবরেই মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে ২৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, নভেম্বরে সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ কমেছে ২১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ আসে ৪৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। এর ৭৭ শতাংশ অর্থ সরকার ব্যয় করেছে মূল ও মুনাফা পরিশোধে। ফলে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ২৫ কোটি টাকা। এই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
অন্যদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে চলতি অর্থবছরে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। তবে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা তুলনামূলক কম। অন্যদিকে আমানত বাড়ায় এর বিপরীতে সুদ দিতে হচ্ছে। এ সময় সরকারের বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যাংক কিছু মুনাফা করতে পারছে। বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডগুলোতে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর কয়েক মাস আগেই করোনার কারণে বেসরকারি ঋণের হার নেমে এসেছিল সর্বনিম্নে।
