বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, আহত ১৫

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:১৯ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতা কর্মী আহত হয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির মতবিনিময় সভায় মাওনা মিজান সিটি কমপ্লেক্সের পৌর বিএনপি কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

কমিটিতে পদ বঞ্চিত একটি গ্রুপ এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে পদ বঞ্চিতরা এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়। দুই পক্ষের উত্তেজিত এমন মারমুখী পরিস্থিতে মতবিনিময় সভা পণ্ড হয়ে যায়। দুই পক্ষের বেশ কজন আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে সভাস্থলে পৌঁছায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় বিকেলে পৌর বিএনপির মাওনা কার্যালয়ে তাদের আহ্বায়ক কমিটির মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পরে সন্ধ্যার কিছু আগে দুই পক্ষের নেতা কর্মীদের মাঝে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এক সময় এ মারামারির জেরে দুই পক্ষে আরও উত্তেজনা ছড়ালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষই অবস্থান নেয়। উত্তেজনামূলক স্লোগানে মহড়া চলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে। এ সময় মাওনা চৌরাস্তায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আক্তারুল আলম বলেন, গত ৮ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি আজ প্রথমবার মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বিভিন্ন ইউনিয়নসহ দলের বিভিন্ন ইউনিট পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত হন। সভার শুরুর দিকে তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোড়ল ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিয়াউল করিম রিফাত মোড়ল বহিরাগত লোকজন নিয়ে দলবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়।

এ সময় পৌর অফিসের জানালার কাচ ও দরজা ভাঙচুর করে । এ সময়  হামলায় বেশ কয়েকজন। পরে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোড়ল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আহ্বায়ক কমিটিতে নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ইউনিয়ন থেকে নেতা–কর্মীদের অন্তভুক্ত করা হয়নি। অনেক ত্যাগী নেতা কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের অনুসারী নয় বলে। এতে ত্যাগী নেতা কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করা হলে আকতারুল আলম তেড়ে আসে আমাকে মারতে। এ নিয়ে অফিসে দুপক্ষের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। কমিটি গঠনে তাদের স্বেচ্ছাচারী আচরণের কথা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। এমন অবস্থায় আমাদের না জানিয়েই আজকে  তারা মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে নেতা কর্মীরা আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়। আমরা প্রতিবাদ করায় শাহজাহান ফকির ও আকতারুল আলমের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা করে। 

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়ার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান। হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও এ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত